খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই মে ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ১১ তলার ছাদ থেকে পড়ে আল-মোকাব্বর অর্ণব ইসলাম (৩৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত অর্ণব রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার (২ মে) দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি এলাকার ওই ভবনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংবাদ প্রাপ্তির পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
Table of Contents
শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির সংশ্লিষ্ট আবাসিক ভবনের নিচে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পান স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ভবনের মাঝের ফাঁকা জায়গায় (ডাক্ট বা ভেন্টিলেশন এরিয়া) কংক্রিটের ওপর এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ধানমন্ডি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজিবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তারা সংশ্লিষ্ট ভবনের ছাদ এবং অর্ণবের ফ্ল্যাটটি পরিদর্শন করেছেন।
নিহত আল-মোকাব্বর অর্ণব ইসলাম ধানমন্ডির ওই ভবনের একটি নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। পারিবারিক সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, তিনি তার বোনদের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন, তবে তার মা পৃথক স্থানে বসবাস করেন। ব্যক্তিগত জীবনে অর্ণব অবিবাহিত ছিলেন।
অর্ণবের পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকার ‘রফিকুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। উল্লেখ্য, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অর্ণবের প্রয়াত পিতা রফিকুল ইসলাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পিতার মৃত্যুর পর থেকে অর্ণব প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক দেখভাল ও প্রশাসনিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তারে এই পরিবারটির বিশেষ পরিচিতি ও অবদান রয়েছে।
ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজিব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, অর্ণব ঘটনার সময় ভবনের ১১ তলার ছাদে অবস্থান করছিলেন। স্বজনদের ধারণা, অসাবধানতাবশত ভারসাম্য হারিয়ে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। ভবনের মাঝের খোলা জায়গায় সরাসরি কংক্রিটের ওপর পড়ায় গুরুতর আঘাতেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নিহিত রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্যে পৌঁছাতে নারাজ। পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রতিটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর সঠিক সময় এবং সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে অর্ণবের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট বা ময়নাতদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু নাকি অন্য কিছু। পুলিশ জানিয়েছে, রিপোর্ট পাওয়ার পর যদি নতুন কোনো তথ্য বা রহস্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে ধানমন্ডি থানায় এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। অর্ণবের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার এবং যাত্রাবাড়ীর রফিকুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এরপরই পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ধর্মীয় আচার ও দাফন সম্পন্ন হবে।
পুলিশের তদন্ত দল ইতোমধ্যে ভবনের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক চিত্রটি পুনর্গঠন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিষয়টিকে একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা হিসেবেই পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপরই এই তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে।
মন্তব্য