বাংলা সংগীত জগতের দুই ভিন্ন প্রজন্মের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র—উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা এবং বরেণ্য সংগীত পরিচালক ও গায়ক বাপ্পা মজুমদার—এক নতুন সাঙ্গীতিক মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ‘অনায়াসে’ শিরোনামের একটি সম্পূর্ণ নতুন ও মার্জিত আধুনিক বাংলা গজল নিয়ে শ্রোতাদের মাঝে হাজির হয়েছেন এই দুই গুণী তারকা। গত শনিবার রাতে বাপ্পা মজুমদারের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজে একযোগে গানটি অবমুক্ত করা হয়। গানটি প্রকাশের পর থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে শ্রোতাদের বিপুল প্রশংসা ও ইতিবাচক মন্তব্যে ভাসছে।
গানের কারিগরি দল ও সাঙ্গীতিক বিন্যাস
‘অনায়াসে’ গানটির চমৎকার বাণী ও গীতি বিন্যাস করেছেন বিশিষ্ট গীতিকার গালিব হাসান। গানটির নান্দনিক সুর সৃষ্টি, সামগ্রিক সংগীতায়োজন এবং এর দৃশ্যরূপ বা মিউজিক ভিডিও পরিচালনার ত্রিমাত্রিক দায়িত্ব একাই পালন করেছেন বাপ্পা মজুমদার। এই বিশেষ সৃষ্টিটি ‘অনুভব’ নামক একটি নতুন অ্যালবামের অন্তর্ভুক্ত গান হিসেবে ‘অগ্নিলীলা রেকর্ডস’-এর ব্যানারে প্রকাশ পেয়েছে। গানটির ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক আবহকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে কাজ করেছেন একদল দক্ষ কারিগর ও যন্ত্রী, যার একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচে তুলে ধরা হলো।
‘অনায়াসে’ গানের নেপথ্য কারিগর ও যন্ত্রশিল্পীদের অবদান
গানটির শব্দ বিন্যাস ও দৃশ্যগত সৃষ্টিতে যাঁদের বিশেষ অবদান রয়েছে, তাঁদের দায়িত্বের বিবরণ নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক সূচক | সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম | গানে পালিত সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ভূমিকা |
| ১ | রুনা লায়লা ও বাপ্পা মজুমদার | প্রধান দ্বৈত কণ্ঠশিল্পী |
| ২ | গালিব হাসান | গানের মূল বাণী ও শব্দ রচয়িতা (গীতিকার) |
| ৩ | বাপ্পা মজুমদার | সুর সৃষ্টি, সংগীত সজ্জা ও ভিডিও নির্মাণ |
| ৪ | পল্লব সান্যাল | তবলার ছন্দ বিন্যাস ও বাদন |
| ৫ | জন এস মুন্সী | বেজ গিটার বাদন |
| ৬ | সৈয়দ আমজাদ হোসেন | শব্দ ধারণ, মিশ্রণ ও মাস্টারিং বা চূড়ান্ত রূপদান |
শ্রোতাদের মূল্যায়ন ও সামাজিক মাধ্যমের উপাত্ত
ভিডিও ভাগাভাগির মাধ্যম ইউটিউবে প্রকাশের মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘অনায়াসে’ গানটি ১৪ হাজারেরও বেশি দর্শক দর্শন বা ভিউ লাভ করেছে এবং এক হাজারেরও বেশি পছন্দ বা লাইক সংগ্রহ করেছে। গানটির মন্তব্য বিভাগে সাধারণ শ্রোতা থেকে শুরু করে সংগীতপ্রেমী নেটিজেনরা তাঁদের গভীর মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন। অনেকে দুই শিল্পীর এই যুগলবন্দীকে একটি অনন্য এবং কালজয়ী শিল্পকর্ম বা মাস্টারপিস হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছেন।
গানটি শোনার পর মন্তব্য ঘরে একজন বিজ্ঞ শ্রোতা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘অনেকদিন পর রুচিসম্মত একটি গান শুনলাম। এই প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে।’ একই সাথে আলাউদ্দিন আলীর মতো কিংবদন্তি সুরকারের সোনালী অতীতের কথা স্মরণ করে আরেকজন শ্রোতা লিখেছেন, ‘আলাউদ্দিন আলী সাহেবের পরে রুনা ম্যামের গায়কীতে এমন সাহসী কাজ বাপ্পা দাদাই করলেন। অসাধারণ এক যুগলবন্দী।’ দুই ভিন্ন যুগের দুই প্রতিভাবান ও রুচিশীল শিল্পীর এই অনন্য সাঙ্গীতিক পরিবেশনা মূলত একটি আধুনিক বাংলা গজল, যা শ্রোতাদের মাঝে গভীর আকুলতা ও ভালোবাসার এক আবহ তৈরি করেছে। বাংলা সংগীতের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে দুই প্রজন্মের এই মেলবন্ধন এক অমূল্য উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
