দেশে এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চার শতাধিক মানুষ

দেশে গত এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ওই মাসে মোট ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৭০৯ জন। দুর্ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণে মোটরসাইকেল, পথচারী, চালক ও সহকারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম, টেলিভিশন সংবাদ এবং নিজস্ব তথ্যসূত্রের সমন্বয়ে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

দুর্ঘটনা ও হতাহতের সারসংক্ষেপ

এপ্রিল মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১৪২টি মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট ছিল। এসব ঘটনায় ১১৩ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। পথচারীদের ক্ষেত্রে ১০২ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এছাড়া যানবাহনের চালক ও সহকারীদের মধ্যে ৪৬ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

দুর্ঘটনায় মোট ৬৫৯টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে বাস ৮৪টি, ট্রাক ৯১টি, মোটরসাইকেল ১৫৩টি এবং তিন চাকার যানবাহন ১১২টি।

সড়কের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনা

দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক সড়কে ১৯৩টি, গ্রামীণ সড়কে ৪৫টি এবং শহরের সড়কে ৫৭টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন

দুর্ঘটনার প্রকৃতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৯৭টি দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৯৪টি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, ১০৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় এবং ৫২টি যানবাহনের পেছনে ধাক্কার কারণে ঘটেছে।

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ

সময়ের দিক থেকে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালের সময়ে, যা মোট ঘটনার ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। রাতের সময়ে ঘটেছে ১৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।

বিভাগভিত্তিক চিত্র

দেশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী শহরে পৃথকভাবে ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনা ঘটলেও সেখানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিভাগদুর্ঘটনানিহত
ঢাকা১০৯১০২
সিলেট১২১২
অন্যান্য বিভাগ (সমষ্টিগত)৩৪২২৯০

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ

সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের চলাচল, তরুণ চালকদের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন খাতে অনিয়ম ও চাঁদাবাজি।

এই পরিসংখ্যান থেকে এপ্রিল মাসে দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র পাওয়া যায়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি ও অঞ্চলে দুর্ঘটনার প্রভাব বিস্তৃত ছিল।