দীর্ঘ ছুটির পর কাল খুলছে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশজুড়ে আবারও শুরু হচ্ছে সব ধরনের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম। একই সাথে দেশের ব্যাংকিং খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা এবং প্রধান দুটি পুঁজিবাজারেও নিয়মিত লেনদেন ও অফিশিয়াল কার্যক্রম পুনরায় চালু হচ্ছে। মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন এই সরকারি ছুটি বলবৎ ছিল। দীর্ঘ এই ছুটির আমেজ কাটিয়ে আগামীকাল সকাল থেকে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক খাত।

ব্যাংকিং খাতের স্বাভাবিক লেনদেন শুরু

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির সময় সাধারণ গ্রাহকদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে দেশের কিছু নির্দিষ্ট এলাকার ব্যাংক শাখা সীমিত পরিসরে খোলা রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প এলাকায় পোশাক শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে ২৫ ও ২৬ মে নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা রাখা হয়।

তবে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত সূচি অনুযায়ী লেনদেন শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে, আর গ্রাহক লেনদেনের সময়সীমা থাকবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।

পুঁজিবাজারে নিয়মিত লেনদেন প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ সাত দিনের ছুটির পর দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কাল থেকে নিয়মিত লেনদেন শুরু হতে যাচ্ছে। ঈদের ছুটির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

দীর্ঘ এই বিরতির পর বাজার খোলার প্রথম দিন বিনিয়োগকারী, ব্রোকারেজ হাউজ এবং বাজার সংশ্লিষ্টদের মাঝে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ ছুটির পর বিনিয়োগকারীরা নতুন উদ্যমে বাজারে সক্রিয় হবেন এবং নতুন মূলধন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে লেনদেনের গতি ও সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

অফিস-আদালত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মচাঞ্চল্য

ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় আগামীকাল থেকে শুধু ব্যাংক বা পুঁজিবাজারই নয়, বরং দেশের সব বিমা কোম্পানি ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানও তাদের নিয়মিত সেবা দেওয়া শুরু করবে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ায় রাজধানীসহ দেশজুড়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে।

সাধারণত ঈদের ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে গ্রাহক এবং বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকে। গ্রাহকদের এই বাড়তি চাপ সামলানোর জন্য bank ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, যাতে দীর্ঘ ছুটির পর ফিরে আসা নাগরিকরা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন।