খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই জুন ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম

দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বাংলাদেশ। বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে ঢাকা জানিয়েছে, আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পন্ন করা হলেও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাসসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ ঘটনায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা বাংলাদেশের কাছে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে যথাসময়ে অবহিত করা হয়েছিল যে জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোটের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়ে থাকে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সত্ত্বেও দিল্লি বিমানবন্দরে জাহেদ উর রহমানের যাত্রা অব্যাহত রাখতে বাধা দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের কাছে অপ্রত্যাশিত বলে মনে হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোটের একটি বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তাঁকে পরবর্তী গন্তব্যে যেতে দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এরপর বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্মগুলোতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, প্রোটোকল অনুসরণ এবং কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় ঘটনাটি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছে ঢাকা।
একইসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে করা মন্তব্য সম্পর্কেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজ নিজ ভূখণ্ডে বসবাসরত সকল নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বের অংশ।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দিল্লি বিমানবন্দরের এই ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বার্থে এ ধরনের ঘটনার সন্তোষজনক সমাধান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য