জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানকে জুতাপেটা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। নির্বাচনে দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী অভিভাবক সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচন শেষে স্থানীয় রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের এক রাজনৈতিক নেতা নির্বাচিত তালিকা পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগ শুরু করেন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জুন দুপুরে কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন এবং নির্বাচনী কাগজপত্র দেখতে চান। সেখানে তারা নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা পরিবর্তনের দাবি জানান। এতে প্রধান শিক্ষক আপত্তি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সময় এক ব্যক্তি জুতা খুলে তাকে আঘাত করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে তার কানসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে এবং পরে চিকিৎসা নিতে হয়।
ঘটনার পর ২২ জুন তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও বিষয়টি অবহিত করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে কিছু অভিভাবকের আপত্তি ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনা করতে তারা বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। তার দাবি, প্রধান শিক্ষককে কোনো ধরনের আঘাত বা লাঞ্ছিত করা হয়নি। বরং ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
অন্য দুইজন স্থানীয় ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারাও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্দেশ্যেই তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন।
এদিকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক তাকে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে বদলির হুমকির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের অনুলিপি পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি যেহেতু আইনগতভাবে তদন্তাধীন, তাই এ মুহূর্তে আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









