ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের ১৯ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী মৌসুম দেখা গেছে, যেখানে প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণকারী ১০টি দলই অন্তত একজন করে সেঞ্চুরিয়ান পেয়েছে। ব্যাটসম্যানদের আধিপত্যে ভরপুর এই মৌসুমে রেকর্ড ভাঙা ও নতুন ইতিহাস গড়ার ধারাবাহিকতা পুরো আসরজুড়ে দর্শকদের বিনোদনের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই ঐতিহাসিক মাইলফলক পূর্ণ করেন বিরাট কোহলি, যিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৬০ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলে নিজের আইপিএল ক্যারিয়ারের নবম শতক সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে তিনি এই মৌসুমে প্রতিটি দলের সেঞ্চুরির ধারাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণতা দেন।
মৌসুমের শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে সঞ্জু স্যামসন প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন, দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। পরবর্তীতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে তিনি আরেকটি শতক হাঁকিয়ে নিজের ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টেবিলের নিচের দিকে অবস্থান করলেও ব্যাট হাতে তিনটি শতকের দেখা পায় দলটি। কুইন্টন ডি কক পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ১১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তিলক ভার্মা গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মাত্র ৪৫ বলে শতক করেন। আর রায়ান রিকেলটন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৪৪ বলে শতক করে মুম্বাইয়ের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ফিন অ্যালেন দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪৭ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেন। লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে মিচেল মার্শ আরসিবির বিপক্ষে ৪৯ বলে শতক করে শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন।
পাঞ্জাব কিংসের হয়ে তরুণ অস্ট্রেলিয়ান কুপার কনোলি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৫৯ বলে ১০৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তিনি এই কীর্তি গড়ে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিদেশি সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নাম লেখান।
রাজস্থান রয়্যালসের কিশোর প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাত্র ৩৭ বলে ১০৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১২টি ছক্কা। এটি ছিল তার ব্যাটিং প্রতিভার এক অসাধারণ প্রদর্শনী।
দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে কেএল রাহুল পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংস খেলেন, যা মৌসুমের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে রেকর্ড গড়ে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আইপিএলে সর্বোচ্চ ইনিংস হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
গুজরাট টাইটান্সের সাই সুদর্শন আরসিবির বিপক্ষে ৫৭ বলে সেঞ্চুরি করেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে অভিষেক শর্মা দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৬৮ বলে অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস খেলে নিজের দ্বিতীয় আইপিএল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
এই মৌসুমে সেঞ্চুরির পরিসংখ্যান এক নজরে—
| দল | সেঞ্চুরিয়ান | উল্লেখযোগ্য ইনিংস |
|---|---|---|
| চেন্নাই সুপার কিংস | সঞ্জু স্যামসন | ১১৫* |
| কলকাতা নাইট রাইডার্স | ফিন অ্যালেন | ১০০* |
| মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স | কুইন্টন ডি কক, তিলক ভার্মা, রায়ান রিকেলটন | ১১২*, ১০০, ১০০ |
| লখনউ সুপার জায়ান্টস | মিচেল মার্শ | ১১১ |
| পাঞ্জাব কিংস | কুপার কনোলি | ১০৭ |
| রাজস্থান রয়্যালস | বৈভব সূর্যবংশী | ১০৩ |
| দিল্লি ক্যাপিটালস | কেএল রাহুল | ১৫২* |
| গুজরাট টাইটান্স | সাই সুদর্শন | ১০০ |
| সানরাইজার্স হায়দরাবাদ | অভিষেক শর্মা | ১৩৫* |
| রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু | বিরাট কোহলি | ১০৫ |
সব মিলিয়ে এই মৌসুম ব্যাটিং আধিপত্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা আইপিএলের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
