ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া ও পরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক থাকা তিন বাংলাদেশি যুবক দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফিরে এসেছেন। দুই দেশের সীমান্তবর্তী কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন মো. রমজান মল্লিক (২৩), জাবের হোসেন (২৪) এবং আসাদুজ্জামান। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর আগে তারা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে কাজের সন্ধানে ভারতের কেরালা রাজ্যে প্রবেশ করেন। সেখানে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন এবং পরবর্তীতে আটক হন।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারতীয় আদালত তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। সাজা ভোগের জন্য তাদের কেরালার একটি কারাগারে পাঠানো হয়। কারাভোগ শেষ হওয়ার পর মানবিক বিবেচনায় তাদের একটি বেসরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানে শেল্টার হোমে রাখা হয়। এরপর দুই দেশের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
দীর্ঘ প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বাংলাদেশ অংশের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুরো প্রক্রিয়াটি সীমান্তবর্তী দুই দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তাদের গ্রহণের সময় প্রয়োজনীয় সকল আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
ফেরত আসা তিন যুবকের তথ্যসংক্ষেপ
| নাম | বয়স | বিদেশে যাওয়ার সময় | আটক ও সাজা | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| মো. রমজান মল্লিক | ২৩ বছর | প্রায় ১.৫ বছর আগে | অবৈধ অনুপ্রবেশে ১ বছরের কারাদণ্ড | পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন |
| জাবের হোসেন | ২৪ বছর | প্রায় ১.৫ বছর আগে | অবৈধ অনুপ্রবেশে ১ বছরের কারাদণ্ড | পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন |
| আসাদুজ্জামান | বয়স উল্লেখ নেই | প্রায় ১.৫ বছর আগে | অবৈধ অনুপ্রবেশে ১ বছরের কারাদণ্ড | পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন |
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, উন্নত জীবনের আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। পরে আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাদের আটক ও দণ্ডিত করা হয়। সাজা শেষ হওয়ার পর দুই দেশের সমন্বয়ে মানবিক প্রক্রিয়ায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
যশোরভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থার প্রোগ্রাম কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বেনাপোল পোর্ট থানায় আনুষ্ঠানিক গ্রহণের পর তাদের প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কাজ চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের প্রশাসনিক ও মানবিক সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
