ঢাকাতেও পরীক্ষামূলক লোডশেডিং ঘোষণা করলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সংসদে

দেশের কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে রাজধানীতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির কারণে কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ৩০০ বিধির আওতায় জ্বালানি সংকট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য উপস্থাপন করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে রাজধানীতেও পরীক্ষামূলক লোডশেডিং কার্যকর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শপথের মর্যাদা ও সংসদের স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদ্যমান বিদ্যুৎ সংকট একদিনের সমস্যা নয়, বরং অতীতের অব্যবস্থাপনার ফল। কাগজে-কলমে উৎপাদন সক্ষমতা বেশি হলেও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ কাজে বিঘ্ন না ঘটাতে সরকার নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া তিনি দেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি থাকছে ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

নিচে গ্যাস পরিস্থিতি ও লোডশেডিং সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়পরিমাণ
দৈনিক গ্যাস চাহিদা৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট
বর্তমান সরবরাহ (উৎপাদন ও আমদানি)২,৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট
দৈনিক ঘাটতি১,১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট
পরীক্ষামূলক লোডশেডিং (রাজধানী)১১০ মেগাওয়াট

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা স্থাপনা না থাকায় দ্রুত গ্যাস আমদানি বৃদ্ধি সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকার আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম দৃশ্যমান করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে তিনি সংসদে উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি কমানো, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভারসাম্য আনতে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী সংসদে জানান।