দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় সাশ্রয় করতে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষার খরচে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ, যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা বা গাইডলাইন নির্ধারণ বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সভায় দেশের চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাব্যয় সাধারণের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের আর্থিক বোঝা ও ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রকোপের সময়ে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের চিকিৎসাব্যয় কমাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বিশেষ মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্যয় কমানোর প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার মোট ব্যয়ের ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মোট খরচ যদি ১০ হাজার টাকা হয়, তবে এই ছাড়ের ফলে রোগীকে ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং অবশিষ্ট ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ বা ছাড়ের আওতায় আসবে।
ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রস্তাবিত ব্যয় ছাড়ের আর্থিক বিবরণী
বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচ কমানোর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ছাড়ের বিষয়টি সহজভাবে বোঝার জন্য নিচে একটি বিবরণী সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| পরীক্ষার আনুমানিক মোট খরচ (টাকা) | প্রস্তাবিত ছাড়ের হার (শতাংশ) | সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ছাড়ের পরিমাণ (টাকা) | রোগীকে পরিশোধ করতে হবে (টাকা) |
| ১,০০০ | ৮০% | ৮০০ | ২০০ |
| ২,০০০ | ৮০% | ১,৬০০ | ৪০০ |
| ৫,০০০ | ৮০% | ৪,০০০ | ১,০০০ |
| ১০,০০০ | ৮০% | ৮,০০০ | ২,০০০ |
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের রূপরেখা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এর সঠিক চিকিৎসার লক্ষ্যে বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত ও গাইডলাইন অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভার মূল সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
আর্থিক ছাড়ের বাস্তবায়ন: বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর মূল পরীক্ষাগুলোর ফি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
সমন্বিত চিকিৎসা নির্দেশিকা: সরকারি নির্দেশিকা বা গাইডলাইন অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের সঠিক ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা।
যৌথ আলোচনা ও তদারকি: সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থা সচল রাখা এবং জনগণের ওপর বাড়তি খরচের চাপ না দেওয়া।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক ও মানবিক আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেবে এবং ডেঙ্গু রোগীদের সেবাদানে আন্তরিক ভূমিকা পালন করবে।
