ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলায় পৃথক দুইটি ঘটনায় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) নিজ নিজ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। উভয় ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দোগাছি (গির্জাপাড়া) গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সী সুশীল চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক কষ্টে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তিনি পরিবারের অগোচরে কীটনাশক পান করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে স্থানীয় একজন পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতের ছোট ভাই মলিন চন্দ্র রায় জানান, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও কষ্টের কারণেই তার ভাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে পরিবারের ধারণা। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই সৎকারের জন্য হস্তান্তরের আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী থানায় অপমৃত্যুর একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
অন্যদিকে, একই জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ৩ নম্বর হোসেনগাঁও ইউনিয়নের উজধারী গ্রামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের নাম স্বপন কুমার রায়, বয়স ২০ বছর। তিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন এবং সম্প্রতি ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হন এবং তাকে স্ত্রীর বাবার বাড়িতে রাখা হয়। পরে স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে আনা নিয়ে পারিবারিকভাবে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়। পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়লে স্বপন কুমার রায় নিজের ঘরে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনার খবর পেয়ে রানীশংকৈল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনাতেও থানায় অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উভয় ঘটনারই প্রকৃত কারণ বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিচে ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| ঘটনাস্থল | নিহত ব্যক্তি | বয়স | ঘটনার ধরন | প্রাথমিক কারণ |
|---|---|---|---|---|
| বালিয়াডাঙ্গী, দোগাছি | সুশীল চন্দ্র রায় | ৬৮ | কীটনাশক সেবন | দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা |
| রানীশংকৈল, উজধারী | স্বপন কুমার রায় | ২০ | ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার | পারিবারিক মনোমালিন্য |
উভয় ঘটনাই এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য জানা গেলে আইনগত ব্যবস্থা সে অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে।
