টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে বিরাট কোহলির বিদায় ও মানসিক চাপের নেপথ্য কথা

২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে পরাজিত হওয়ার পর ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারতীয় ক্রিকেট দল। এই সিরিজ হারের ঠিক একদিন পর টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন বিরাট কোহলি। এর আগে তিনি ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) তাকে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকেও সরিয়ে দেয়।

অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলি ভারতীয় ক্রিকেটে এক সোনালী অধ্যায় রচনা করেছেন। দীর্ঘ সাত বছর টেস্ট দলের দায়িত্ব পালন করে তিনি ভারতকে ৬৮টি টেস্ট ম্যাচে নেতৃত্ব দেন, যার মধ্যে ৪০টি ম্যাচেই জয়লাভ করে দল। সংখ্যার বিচারে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনিই ভারতের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।

অধিনায়ক হিসেবে বিরাট কোহলির টেস্ট রেকর্ড

কোহলির দীর্ঘ সাত বছরের টেস্ট অধিনায়কত্বের পরিসংখ্যান নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

বিবরণপরিসংখ্যান
মোট ম্যাচ৬৮টি
জয়৪০টি
সাফল্যের হারভারতের ইতিহাসের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক
দায়িত্বের মেয়াদ৭ বছর

মানসিক চাপ ও অধিনায়কত্ব ছাড়ার কারণ

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিরাট কোহলি তাঁর অধিনায়কত্ব ছাড়ার পেছনের মূল কারণ এবং তৎকালীন মানসিক চাপ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি দলের অন্যতম প্রধান ব্যাটিং ভরসা ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর কাঁধে নেতৃত্বের ভার অর্পণ করা হয়। তবে এই বাড়তি দায়িত্ব ও চাপ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলছিল, তা তিনি প্রথমে অনুধাবন করতে পারেননি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন রূপ নেয় যে, অধিনায়কত্ব ছাড়ার মুহূর্তে তাঁর মানসিক শক্তি সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল।

কোহলি তাঁর সাক্ষাৎকারে দলের অধিনায়ক ও প্রধান ব্যাটার হিসেবে সার্বক্ষণিক মনস্তাত্ত্বিক চাপের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন অধিনায়ক রান না পেলে দল জিতলেও প্রশ্ন ওঠে; আবার নিজে ভালো খেললেও দল হেরে গেলে সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়। এই দুটি বিপরীতমুখী বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তা করতে করতে তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত ও হাঁপিয়ে উঠেছিলেন।

অনুশীলনের চাপ এবং রাহুল দ্রাবিড়ের ভূমিকা

মানসিক অবসাদের কারণে কোহলির মনে প্রতিনিয়ত এক ধরনের সংশয় কাজ করত। তিনি সব সময় ভাবতেন যে তিনি হয়তো প্রত্যাশানুযায়ী ভালো খেলতে পারছেন না। এমনকি নেটে অনুশীলন করার সময়েও তাঁর মনে হতো যে তরুণ ক্রিকেটাররা তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছে। যদি কোনোদিন অনুশীলন আশানুরূপ না হতো, তবে তরুণরা মনে মনে প্রশ্ন তুলবে যে—এই ক্রিকেটারটি কীভাবে এত বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফর্ম করে আসছেন!

এই কঠিন সময়ে তৎকালীন ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড় তাঁর পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। রাহুল দ্রাবিড়ের নিজের খেলোয়াড়ি জীবনেও এমন সমান্তরাল অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি কোহলির মানসিক অবস্থা বুঝতে সক্ষম হন। দ্রাবিড়ের দেওয়া দিকনির্দেশনা ও মূল্যবান পরামর্শের ওপর ভিত্তি করেই বিরাট কোহলি পুনরায় চাপমুক্ত হয়ে ক্রিকেট খেলাটি উপভোগ করতে শুরু করেন।