ডিজিটাল বীমা খাতে গ্রাহক আকর্ষণের ধারা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে যেখানে বীমা পণ্যের প্রধান লক্ষ্য ছিল তুলনামূলকভাবে উচ্চ প্রিমিয়ামের বার্ষিক পলিসি বিক্রি, এখন সেখানে স্বল্পমূল্যের, সহজ এবং তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণযোগ্য বীমা পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। এই পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো এক টাকার ট্রিপ বীমা, যা মাইক্রো-ইন্স্যুরেন্স প্রবণতার একটি বাস্তব প্রয়োগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের স্বল্পমূল্যের বীমা কেবল ক্ষুদ্র সুরক্ষা নয়, বরং নতুন গ্রাহক তৈরি, আস্থা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে বড় প্রিমিয়ামের বীমা পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে।
ভারতের ডিজিটাল বীমা প্রতিষ্ঠান Acko রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম Ola–এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই ট্রিপ বীমা চালু করে। শহরের ভেতরের যাত্রার ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয় এক রুপি। একই সঙ্গে ভিন্ন সেবার জন্য পৃথক মূল্য নির্ধারণ করা হয়—রেন্টাল যাত্রায় ১০ রুপি এবং আউটস্টেশন যাত্রায় ১৫ রুপি।
এই বীমা কাঠামোর অধীনে গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত সুরক্ষা পেতেন। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল দুর্ঘটনাজনিত চিকিৎসা ব্যয়, ব্যাগেজ বা ল্যাপটপ হারানো, যাত্রা বিঘ্নিত হলে আর্থিক সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং জরুরি হোটেল সুবিধা।
ট্রিপ বীমার কাঠামো
| সেবার ধরন | কভারেজের বিষয় | প্রিমিয়াম |
|---|---|---|
| শহরের ভেতরের যাত্রা | পূর্ণ ট্রিপ সুরক্ষা | ১ রুপি |
| রেন্টাল যাত্রা | বর্ধিত সুরক্ষা | ১০ রুপি |
| আউটস্টেশন যাত্রা | দীর্ঘ দূরত্ব কভার | ১৫ রুপি |
এই বীমা মডেলের প্রধান শক্তি ছিল এর সরলতা। যাত্রা বুকিংয়ের সময়ই বীমা যুক্ত করার সুযোগ থাকায় ব্যবহারকারীদের আলাদা আবেদন বা কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অ্যাপভিত্তিক এবং স্বয়ংক্রিয়।
ক্লেইম প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ ডিজিটালভাবে পরিচালিত হতো। ব্যবহারকারীরা অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় দুই মিনিটের মধ্যে ক্লেইম জমা দিতে পারতেন এবং সাধারণত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা নিষ্পত্তি করা হতো। এই দ্রুততা গ্রাহক আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তথ্য অনুযায়ী, এই পণ্য চালুর প্রথম ৯ মাসে ২৫০ মিলিয়নের বেশি পলিসি বিক্রি হয়। একই সময়ে অ্যাটাচ রেট ৫০ শতাংশের বেশি ছিল, অর্থাৎ মোট যাত্রার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে গ্রাহক বীমা গ্রহণ করেছেন। প্রযুক্তিগতভাবে সেবাটির আপটাইম ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা উচ্চ নির্ভরযোগ্যতার নির্দেশ করে।
পরবর্তীতে এই ধরনের এমবেডেড বীমা মডেল বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রসারিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে RedBus, Zomato, Goibibo এবং Dunzo।
এই প্রবণতা দেখাচ্ছে যে বীমা এখন আর আলাদা বিক্রয় চ্যানেলের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দৈনন্দিন ডিজিটাল সেবার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠছে। যাত্রা, খাদ্য সরবরাহ বা অনলাইন সেবার মতো প্ল্যাটফর্মে স্বল্পমূল্যের বীমা সহজেই যুক্ত হওয়ায় এটি দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার মতো বাজারে, যেখানে বীমা গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম, এই ধরনের মডেল নতুন গ্রাহক তৈরি এবং বীমা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
