কুয়ালালামপুর, ৯ ফেব্রুয়ারি — মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সড়ক পরিবহন বিভাগের (জেপজে) বিশেষ লাক্সারি যানবাহনবিরোধী অভিযানে একটি বিলাসবহুল বেন্টলি কনটিনেন্টাল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গতকাল জালান তুন রাজাক এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে গাড়িটির একাধিক গুরুতর আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়। গাড়িটি পরিচালনা করছিলেন এক নারী, যিনি জিজ্ঞাসাবাদের সময় এসব অনিয়মকে “অবহেলা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেন, আগে পরিবারের অন্য সদস্যরা গাড়ির কাগজপত্র দেখভাল করতেন।
জেপজে পরিচালক হামিদি আডম গণমাধ্যমকে জানান, নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে গাড়িটিকে থামিয়ে নথিপত্র যাচাই করা হয়। যাচাইয়ে দেখা যায়, গাড়িটি চালকের নামেই নিবন্ধিত হলেও ২০১৮ সালের পর থেকে এর রোড ট্যাক্স ও বীমা নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া, চালকের কাছে বৈধ কমপিটেন্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স (সিডিএল) না থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়। এসব লঙ্ঘন মালয়েশিয়ার রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৮৭ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
হামিদি আডম আরও বলেন, “গাড়ির মালিক নিজেই স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে রোড ট্যাক্স ও বীমা নবায়নের বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল। আইন অনুযায়ী, যিনি গাড়ির মালিক ও চালক, চূড়ান্ত দায়িত্ব তারই। অবহেলার অজুহাত আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়।” যাচাই শেষে গাড়িটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয় এবং প্রযোজ্য আইনের আওতায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
জেপজে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিলাসবহুল ও উচ্চমূল্যের যানবাহনের ক্ষেত্রেও নথিপত্রে অনিয়মের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক মালিক মনে করেন, দামি গাড়ি হওয়ায় বা পরিচিতজনের মাধ্যমে বিষয়টি দেখাশোনা করানোয় তারা দায়িত্বমুক্ত। বাস্তবে এটি একটি ভুল ধারণা। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য—গাড়ির মূল্য বা মালিকের সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ রোড ট্যাক্স ও বীমা ছাড়া গাড়ি চালানো শুধু আইনি অপরাধই নয়, এটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আর্থিক ও আইনি ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞ ড. ফারিদা হোসেন বলেন, “অনেক সময় পরিবার বা সহকারী এসব কাজ সামলালেও, শেষ পর্যন্ত গাড়ির মালিককেই নিয়মিত যাচাই করতে হবে। অবহেলার ফলাফল হতে পারে বড় ধরনের জরিমানা কিংবা গাড়ি বাজেয়াপ্ত হওয়া।”
জেপজে জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত গাড়ি ফেরত পেতে হলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি বকেয়া রোড ট্যাক্স, বীমা প্রিমিয়াম, জরিমানা ও সংশ্লিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হবে। কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সকল চালক আইন মানতে বাধ্য হন।
নিচে গাড়ি ও ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গাড়ির ধরণ | Bentley Continental |
| অভিযান স্থান | Jalan Tun Razak, কুয়ালালামপুর |
| চালক/অভিযুক্ত | নারী (নাম প্রকাশিত হয়নি) |
| রোড ট্যাক্স নবায়ন | সর্বশেষ ২০১৮ সালে |
| বীমা নবায়ন | সর্বশেষ ২০১৮ সালে |
| ড্রাইভিং লাইসেন্স | বৈধ সিডিএল অনুপস্থিত |
| শনাক্ত আইন লঙ্ঘন | রোড ট্যাক্স মেয়াদোত্তীর্ণ, বীমা নেই, লাইসেন্স অবৈধ |
| আইনগত ভিত্তি | Road Transport Act 1987 |
এই ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হওয়া যেমন গর্বের, তেমনি আইন মেনে চলার দায়িত্বও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
