খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৬:১৭ পিএম

টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে জিম্বাবুয়েকে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবেই গণ্য করা হয়। তবে মাঠের ক্রিকেটে সেই জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণের সামনেই রীতিমতো চরম সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে দাঁড়াতে পারছে না বাংলাদেশের চেনা ব্যাটিং লাইনআপ।
রবিবার ম্যাচের শুরুতে টস ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে যায়নি। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামতে বাধ্য হয় সফরকারী বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। দলীয় মাত্র ৩৬ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম অনিক। এই দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান দ্রুত বিদায় নিলে শুরুতেই বড় ধরনের প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় দল।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে তৃতীয় উইকেটে দারুণ এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ ও বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান উইকেটে থিতু হয়ে ৭৭ রানের একটি মূল্যবান পার্টনারশিপ গড়েন। তাঁদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দল ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। বিশেষ করে মুমিনুল হক জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ১১টি চোখধাঁধানো বাউন্ডারির সাহায্যে ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে ৮১ বলে ৬০ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলে মুমিনুল আউট হলে ভাঙে এই জুটি। দলীয় ১১৩ রানে মুমিনুল বিদায় নেওয়ার পরই যেন পুরো ইনিংসে মড়ক লাগে।
২ উইকেটে ১১৩ রান করা বাংলাদেশ দল এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে ওপরের সারির ৪টি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার উপক্রম হয়। মুমিনুল আউটের পর মাত্র ৬ রান যোগ হতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে তিনি সীমানার কাছে সহজ ক্যাচ তুলে দেন।
অধিনায়কের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন শটের পর আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন দলের দুই অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়। তাঁরা দুজনই জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ের সামনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ১৩০ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চরম খাদের কিনারে চলে যায় দল।
এমন কঠিন এক ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে দলের হাল ধরার চেষ্টা করছেন দুই বোলার অমিত হাসান ও তাইজুল ইসলাম। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা যেখানে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে এই দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান উইকেটে টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন। মূলত জিম্বাবুয়ের পেসার ও স্পিনারদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে বড় কোনো জুটি গড়তে না পারায় প্রথম দিনেই অলআউট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, তাইজুল ও অমিতের ব্যাট দলকে সম্মানজনক একটি পুঁজিতে পৌঁছে দিতে পারে কি না।
মন্তব্য