খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুন ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে জার্মানি এমন একটি দল, যাকে কখনোই শুধুমাত্র সাম্প্রতিক ফর্ম বা কাগজে থাকা পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। ইয়োহান ক্রইফ, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের দলকে হারিয়েই তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
আসন্ন বিশ্বকাপে জার্মানি এখনকার অধিকাংশ ফুটবল সমর্থকের ফেবারিট তালিকায় নেই। দলের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তনের মধ্যেই আছে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ী প্রজন্মের অনেক তারকা বিদায় নিয়েছেন, এবং ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই তারা বিদায় নিয়েছে। এ কারণে অনেকের চোখে জার্মানি এখন আর আগের সেই ভয়ংকর দল নয়।
তবে ইতিহাস এবং বর্তমান দলের গঠন উভয়ই সতর্কবার্তা দেয়। জার্মানি কখনোই একক তারকার উপর নির্ভরশীল দল নয়। দলটির মূল শক্তি হলো দলগত ফুটবল, শৃঙ্খলা, কৌশলগত পরিকল্পনা, এবং চাপের মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তা।
বর্তমান দলটি তরুণ, প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময়। জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, কাই হাভার্টজ, ডেনিজ উনদাভ ও আলেক্সান্দার পাভলোভিচের মতো খেলোয়াড়দের মধ্যে উচ্চ আত্মবিশ্বাস ও বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষুধা দেখা যায়। এছাড়া, জশুয়া কিমিখ এবং ম্যানুয়েল নয়্যারের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা দলের মানসিক ও কৌশলগত শক্তি জোগাচ্ছেন।
| বছর | প্রতিদ্বন্দ্বী | ফলাফল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| 1954 | হাঙ্গেরি | 3-2 জয় | ‘Miracle of Bern’, আন্ডারডগ জয় |
| 1974 | নেদারল্যান্ডস | 2-1 জয় | ইয়োহান ক্রইফের টোটাল ফুটবলকে হারানো |
| 1990 | আর্জেন্টিনা | 1-0 জয় | ডিয়েগো ম্যারাডোনার দলের বিরুদ্ধে তৃতীয় বিশ্বকাপ |
| 2014 | আর্জেন্টিনা | 1-0 জয় | লিওনেল মেসির বিপক্ষে চতুর্থ বিশ্বকাপ; ব্রাজিলের বিরুদ্ধে 7-1 জয়ও উল্লেখযোগ্য |
| 2018 | বিভিন্ন | গ্রুপ পর্বে বিদায় | ব্যর্থতার উদাহরণ |
| 2022 | বিভিন্ন | গ্রুপ পর্বে বিদায় | টানা ব্যর্থতা |
ইতিহাসে দেখা যায়, জার্মানি আন্ডারডগ হিসাবেও বড় পরিসরের চমক দেখাতে পারে। ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরিকে পরাজিত করা, ১৯৭৪ সালে ক্রইফের নেদারল্যান্ডসকে হারানো এবং ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জয়—এগুলি প্রমাণ করে যে, বিশ্বকাপে কম প্রত্যাশা থাকা পরিস্থিতি জার্মানির জন্য সুবিধা হয়ে দাঁড়ায়।
যা স্পষ্ট, জার্মানি হয়তো স্পষ্ট ফেবারিট নয়, কিন্তু তারা প্রতিযোগিতার মাঠে ভয়ংকর আন্ডারডগ দল। তাদের তরুণ প্রতিভা, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং মানসিক দৃঢ়তা যে কোনও বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে চমকে দিতে সক্ষম।
মন্তব্য