চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় গত মার্চ মাসে ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রায় তিন মাস পর মূল অভিযুক্ত মো. ফয়সাল (১৯)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার নিলক্ষী ইউনিয়নের টংকপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত মো. ফয়সাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ ওই শিশু নিখোঁজ হয়। এরপর ২৬ মার্চ তার বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি তুলার গুদাম থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয়রা সেখানে যান। পরে গুদামের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত করে যে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে গুদামের ভেতরে ফেলে রাখা হয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, ওই গুদামের পাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে অভিযুক্ত ফয়সালকে শিশুটিকে নিয়ে গুদামের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে তাকে একা বের হতে দেখা যায়। এই প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার অগ্রগতি হয়।
ঘটনার দিনই অর্থাৎ ২৬ মার্চ নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মো. ফয়সালকে আসামি করে মামলা করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও অভিযান শেষে অবশেষে তাকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
নিহত শিশুর পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কেও পুলিশ তথ্য দেয়। জানা যায়, শিশুটির বাবা প্রতিবন্ধী এবং মা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। অভিযুক্ত ফয়সাল একই কলোনিতে বসবাস করতেন এবং পেশায় দিনমজুর ছিলেন। তার স্থায়ী বাড়ি বরিশাল জেলায়।
ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ | ২৪ মার্চ (নিখোঁজ), ২৬ মার্চ (মরদেহ উদ্ধার) |
| ভুক্তভোগীর বয়স | ১১ বছর |
| ঘটনার স্থান | হাটহাজারী, চট্টগ্রাম |
| মরদেহ উদ্ধার স্থান | বাড়ির পাশের তুলার গুদাম |
| প্রধান অভিযুক্ত | মো. ফয়সাল (১৯) |
| গ্রেপ্তারের স্থান | টংকপাড়া, নিলক্ষী ইউনিয়ন, রায়পুরা, নরসিংদী |
| গ্রেপ্তারের সময় | বুধবার রাত |
| মামলার বাদী | নিহত শিশুর মা |
| অভিযুক্তের পেশা | দিনমজুর |
| অতিরিক্ত তথ্য | নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত |
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চলমান ছিল।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী অঞ্চল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি জবানবন্দি প্রদান করেন। (প্রথম আলো)
