ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার ওসি প্রত্যাহার

রাজশাহীর বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) কমলেশ দাসের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে বাগমারা থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিজ কার্যালয়ে বসে অর্থ লেনদেনের এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ভিডিওর বিবরণ ও অর্থ লেনদেনের চিত্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ক্লিপটি মোট ৫২ সেকেন্ডের। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) কমলেশ দাস তার নিজস্ব দাপ্তরিক কার্যালয়ে চেয়ারে বসে আছেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার সামনে এসে একটি খাম হস্তান্তর করেন। কমলেশ দাস খামটি গ্রহণ করে তার ভেতরে থাকা টাকাগুলো বের করেন এবং তা গণনা করেন। টাকা গণনা শেষ করার পর তিনি সেই অর্থ নিজের মানিব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন। সম্পূর্ণ অর্থ লেনদেনের সময় অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির সাথে পুলিশ কর্মকর্তা কমলেশ দাসকে স্বাভাবিক ও হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে কথাবার্তা বলতে দেখা যায়।

তবে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটিতে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ভিডিওর দৃশ্য স্পষ্ট হলেও সেখানে অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি। এর পাশাপাশি ভিডিওটির অডিও বা শব্দ ধারণের ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। ফলে অর্থ লেনদেনের সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা এবং অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির মধ্যে ঠিক কী ধরনের কথোপকথন হয়েছিল, তা জানা যায়নি। অডিও না থাকায় ঠিক কী কারণে এই অর্থের আদান-প্রদান সংঘটিত হয়েছিল, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থন

ঘুষ গ্রহণের এই অভিযোগ এবং ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার প্রসঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা কমলেশ দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন যে, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে ওসি (তদন্ত) কমলেশ দাস আরও বলেন, বাস্তবে তিনি কোনো ধরণের ঘুষের টাকা গ্রহণ করেননি।

জেলা পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত প্রক্রিয়া

এই বিষয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে। জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তদন্তের কাজ যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেই স্বার্থেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কমলেশ দাসকে বাগমারা থানা থেকে প্রত্যাহার করে সাময়িকভাবে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।