জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৯:২২ পিএম

দীর্ঘ দুই বছর পর প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক আবেগঘন পরিবেশে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার ভারতের নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (FCC) সাউথ এশিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশেষ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে তিনি জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করতে চান বলে স্পষ্ট জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের পরিবার এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি তাকে সাময়িকভাবে বিদেশে অবস্থান করতে বাধ্য করলেও মনেপ্রাণে তিনি সবসময় বাংলার মানুষের সঙ্গেই ছিলেন। যেকোনো ধরনের ঝুঁকি বা মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ মনে করে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ সময় বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত নিরসনে তিনি ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা সর্বদলীয় জাতীয় সমঝোতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ দলের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি যুক্ত ছিলেন। সজীব ওয়াজেদ জয় দেশজুড়ে ধর্মীয় মৌলবাদের প্রসার এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় জড়িতদের বিচার এড়িয়ে ঢালাওভাবে ইনডেমনিটি দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির স্বার্থে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, কোটা সংস্কারের মূল দাবিকে আড়াল করে একটি পরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার পতনের সহিংস পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিহত সদস্য, দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মী এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সঠিক জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা বজায় থাকলে তা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও বিদেশী বিনিয়োগের পরিবেশকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
শেখ হাসিনার এই রাজনৈতিক ঘোষণার পরপরই দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অযৌক্তিক বা অপ্রয়োজনীয় ইস্যু তৈরি করে দেশের ভেতরে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা উচিত।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগ সরাসরি সংঘাতের পথ এড়িয়ে আলোচনার টেবিলে আসার রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা জাতীয় সমঝোতার একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সামনে এনেছে। ফলে দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষে এই বার্তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে বা তারেক রহমান কীভাবে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেবেন, তা নিয়ে পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য