বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ নামের একটি গরু উপহার দিতে চেয়ে আলোচনায় আসা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সোহাগ মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান।
গ্রেপ্তার সোহাগ মৃধা মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। রোববার (১৪ জুন) তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে পুলিশ জানায়। গ্রেপ্তারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মারামারির মামলা এবং অন্যটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় দায়ের করা মামলা। মারামারির মামলায় তিনি এজাহারের এক নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত, আর পর্নোগ্রাফি মামলায় তাকে সহযোগী আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলাগুলোর ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, মারামারি ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত মামলায় সোহাগ মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্তের নাম | সোহাগ মৃধা |
| এলাকা | উত্তর ঝাটিবুনিয়া, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী |
| মামলা-১ | মারামারি মামলা (এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি) |
| মামলা-২ | পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন মামলা (সহযোগী আসামি) |
| গ্রেপ্তারের তারিখ | ১৪ জুন (রোববার) |
| বর্তমান অবস্থা | আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ |
উল্লেখ্য, গত বছর সোহাগ মৃধা ‘কালো মানিক’ নামে একটি গরু বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন। পরে জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়া সেই উপহার গ্রহণ না করে সেটি ফিরিয়ে দেন এবং সোহাগের পরিবারের আর্থিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানানো হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেই গরুটি বিক্রির কথাও জানা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে চলমান দুটি মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
