দেশের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতকে দেশব্যাপী আরও গতিশীল করতে এবং তাদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে দুটি পুনরর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বিশেষ কর্মসূচি বিভাগ’-এর অধীনে ‘গুচ্ছ অর্থায়ন প্রকল্প’ এবং ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প পুনরর্থায়ন প্রকল্প’-এর আওতায় এই অংশীদারিত্ব চুক্তি দুটি স্বাক্ষরিত হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তা ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গণমাধ্যমে প্রেরিত একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার।
সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি-এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আজিম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বিশেষ কর্মসূচি বিভাগের পরিচালক নওশাদ মুস্তফা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
নিচে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তি ও সামগ্রিক তথ্যাদি ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| চুক্তির বিবরণ ও বিভাগ | প্রধান সমন্বয়কারী ও সভাপতি | সীমান্ত ব্যাংকের প্রতিনিধি | বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি | উপস্থিত অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা |
| কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প পুনরর্থায়ন চুক্তি | নুরুন নাহার (ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক) | মো. নুরুল আজিম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) | নওশাদ মুস্তফা (পরিচালক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বিশেষ কর্মসূচি বিভাগ) | হুসনে আরা শিখা (নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক); মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং মো. ফরিদুল ইসলাম (সীমান্ত ব্যাংক) |
ঋণের সুদের হার ও উদ্যোক্তাদের সুবিধা
স্বাক্ষরিত এই নতুন অর্থনৈতিক প্রকল্পের আওতায় দেশের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের গ্রাহকেরা অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এবং সহজ শর্তে আর্থিক ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এই প্রকল্পের অধীনে উদ্যোক্তা এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বার্ষিক মাত্র শতকরা ৭ ভাগ রেয়াতি বা হ্রাসকৃত সুদের হারে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সাশ্রয়ী অর্থায়ন প্রক্রিয়া দেশব্যাপী নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট শর্ত ও অর্থনৈতিক সুফলের বিবরণ নিচে ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো:
| ঋণের আওতাভুক্ত খাতসমূহ | বার্ষিক সুদের হার | অর্থায়নের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য | সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব |
| কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প | শতকরা ৭ ভাগ (বার্ষিক) | সাশ্রয়ী অর্থায়ন ও সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ | টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি |
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান
এই পুনরর্থায়ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের গুচ্ছ-ভিত্তিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তা এবং আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বা পিছিয়ে পড়া কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতগুলোতে অর্থায়নের পরিধি ব্যাপক হারে সম্প্রসারিত হবে। সীমান্ত ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যৌথ প্রচেষ্টা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সাহায্য করবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সময়োপযোগী অর্থায়ন দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং গ্রামীণ ও নগর উভয় অঞ্চলেই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক অবদান রাখবে।
