রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে এক শিক্ষিকাকে জুতাপেটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি জয়নগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনার পর পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে, যখন কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ ও আশপাশের এলাকায় আগেই ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ মোতায়েন ছিল। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও এ ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে একদল রাজনৈতিক পরিচয়ের লোক কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে। তারা পূর্ববর্তী সময়ের আর্থিক হিসাব ও নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। এ সময় কথাবার্তা দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরার ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ, অন্য শিক্ষক এবং কর্মচারীদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয়। এ সময় অফিস কক্ষেও ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে। হামলায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর কলেজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থীরা দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে এবং পুরো পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
আহতদের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো—
| আহত ব্যক্তির নাম | পরিচয় | আঘাতের ধরন | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| আব্দুর রাজ্জাক | অধ্যক্ষ | শারীরিক আঘাত | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| আলেয়া খাতুন হীরা | প্রভাষক | মারধর ও আঘাত | হাসপাতালে ভর্তি |
| রেজাউল করিম আলম | শিক্ষক | আঘাতপ্রাপ্ত | প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে |
| নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক | কর্মচারী | মারধর | স্থিতিশীল |
| নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক | কর্মচারী | আঘাত | স্থিতিশীল |
প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি কলেজে এসে আর্থিক হিসাব ও চাঁদার দাবি জানিয়ে আসছিল। প্রশাসনের পক্ষ নিয়ে অবস্থান নেওয়ায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কেবল পূর্ববর্তী অনিয়ম ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, প্রথমে শিক্ষকদের পক্ষ থেকেই তাদের ওপর হামলা করা হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষের চাপ ও চাঁদা দাবির মুখে পড়ছেন। এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করার কারণেই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলে তিনি মনে করেন।
দুর্গাপুর থানা পুলিশ জানায়, পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তবে হঠাৎ একদল ব্যক্তি জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে।
