ক্যান্টিন বিস্ফোরণে বার্ন আহত ১২

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা ঘাট এলাকায় অবস্থিত জেরা মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই বিস্ফোরণে বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের বরাতে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিদিনের মতো ক্যান্টিনে দুপুরের খাবার গ্রহণ করছিলেন। ওই সময় রান্নাঘরের গ্যাস লাইনে হঠাৎ তীব্র লিকেজ সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তাপে ক্যান্টিনের ভেতরে থাকা অন্তত ১২ জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ—বিশেষ করে মুখ, হাত ও পা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান। সেখানে তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দগ্ধদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কয়েকজনের অবস্থা তুলনামূলকভাবে গুরুতর। কত শতাংশ শরীর পুড়ে গেছে, তা নির্ধারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

আহতদের তালিকা

ক্রমনামবয়সদগ্ধের অবস্থা
নাজমুল শেখ৪০মুখ ও হাত দগ্ধ
সাইফুল ইসলাম৩০হাত ও পা দগ্ধ
রামিজুল৪৫গুরুতর দগ্ধ
আমির২৫মাঝারি দগ্ধ
শঙ্কর২৫মুখ দগ্ধ
কাউসার৩০হাত দগ্ধ
তুহিন শেখ৩০পা দগ্ধ
মনির হোসেন৪৫গুরুতর দগ্ধ
আল আমিন৪০মাঝারি দগ্ধ
১০ওসমান গনি৩০মুখ ও হাত দগ্ধ
১১সুপ্রভাত ঘোষ৪২পা দগ্ধ
১২বদরুল হায়দার৫০গুরুতর দগ্ধ

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন জানান, দুপুরে একযোগে ১২ জন দগ্ধ রোগীকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে, এ ধরনের দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল তা নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের গ্যাস লাইনের ত্রুটি থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই দুর্ঘটনার পর বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।