কোহলি-হেড উত্তেজনায় বাড়ল অনলাইন হয়রানির বিতর্ক

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ঘিরে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অস্ট্রেলীয় ওপেনার ট্রাভিস হেড-এর মধ্যে ম্যাচ চলাকালে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর অনলাইনে আক্রমণের শিকার হয়েছেন ট্রাভিস হেডের স্ত্রী জেসিকা হেড

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার আইপিএলে Royal Challengers BengaluruSunrisers Hyderabad-এর মধ্যকার ম্যাচে। ম্যাচ চলাকালে বিরাট কোহলি ও ট্রাভিস হেডের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মাঠে দুজনকে কথাকাটাকাটিতে জড়াতে দেখা যায়, যা ম্যাচজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরা করমর্দনের জন্য সারিবদ্ধ হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ট্রাভিস হেড কোহলির দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেও কোহলি সেটি উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যান। যদিও তিনি অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এরপর থেকেই জেসিকা হেডের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য আসতে থাকে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের একটি অংশ, বিশেষ করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও বিরাট কোহলির সমর্থকদের দিক থেকেই এসব মন্তব্য এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম The Advertiser-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেসিকা হেড বলেন, শুধু তিনি নন, তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরাও ঘৃণামূলক বার্তার শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, ঘুম থেকে উঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখতে পান।

জেসিকা বলেন, “ঘুম থেকে উঠে দেখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আক্রমণ চলছে। আমরা ঠিক আছি; কিন্তু ওরা আমার বন্ধু ও পরিবারকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলায় আবেগ ও উত্তেজনা স্বাভাবিক বিষয় হলেও মাঠের বাইরের মানুষদের প্রতিও সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, “আবেগ খেলার অংশ। তবে এটাও মনে রাখা জরুরি, মাঠের খেলার আড়ালে যারা রয়েছেন, তারা রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ এবং তাদের পরিবারও রয়েছে।”

জেসিকা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ঘটনা মানুষকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে এবং একে অপরকে সমর্থন করার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু বানানো গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। ২০২৩ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ২০২৩ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল-এ অস্ট্রেলিয়া ভারতের বিপক্ষে শিরোপা জয়ের পরও তারা একই ধরনের অনলাইন আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ওই ম্যাচে ট্রাভিস হেড গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

জেসিকার ভাষায়, “এটা যেন বিশ্বকাপের পর হওয়া সেই হিংসাত্মক আচরণের পুনরাবৃত্তি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়, কোচ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক মন্তব্যের ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন খেলোয়াড় ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ঘৃণামূলক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থকদের আবেগ প্রবল হলেও সেই আবেগ যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা পরিবারের সদস্যদের হয়রানিতে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও বিভিন্ন মহল থেকে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।