খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৪৯ এএম

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে একটি ভোটকেন্দ্রে গভীর রাতে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে শহরের ঐতিহাসিক ভান্ডারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আটক ব্যক্তির নাম নাসিরুল ইসলাম, যিনি বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
Table of Contents
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের আগের রাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছাড়া অন্য কারোর ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে খবর আসে যে ভান্ডারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি অনধিকার প্রবেশ করেছেন। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সেখানে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান চলাকালে কেন্দ্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের মধ্যে নাসিরুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় অন্যান্য ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হন। আটকের পর নাসিরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কেবল আগামীকালের নির্বাচনের জন্য পোলিং এজেন্টদের একটি তালিকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে এসেছিলেন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানান, রাতে কোনো রাজনৈতিক কর্মীর ভোটকেন্দ্রে তালিকা প্রদান বা প্রবেশের আইনগত কোনো বিধান নেই।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| আটক ব্যক্তির নাম | নাসিরুল ইসলাম |
| রাজনৈতিক পদবি | সেক্রেটারি, ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত, বগুড়া পৌরসভা |
| ঘটনাস্থল | ভান্ডারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র, বগুড়া-৬ আসন |
| আটক করার সময় | বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি; রাত ১০:০০ ঘটিকা |
| আটককারী কর্তৃপক্ষ | ভ্রাম্যমাণ আদালত (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকার) |
| অভিযোগের ধরন | নির্বাচনী কেন্দ্রে অবৈধ অনাধিকার প্রবেশ ও বিধিলঙ্ঘন |
| বর্তমান অবস্থা | আটক ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন |
এই আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। বগুড়া শহর জামায়াতের যুব বিভাগের সম্পাদক আব্দুস সালাম তুহিন অভিযোগ করেন, “আমাদের কর্মীরা স্রেফ প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সাথে সমন্বয় করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি করে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই আমাদের নেতাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের দাবি, গভীর রাতে কেন্দ্রে প্রবেশের উদ্দেশ্য ছিল ব্যালট পেপার বা নির্বাচনী সরঞ্জামাদিতে হস্তক্ষেপ করা। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় তারা আপসহীন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বর্তমানে ভান্ডারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য