খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৯ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা এখন জনসভা, পথসভা এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা সংঘাত তৈরি না হয়, সেজন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন থেকেই মাঠ পর্যায়ে তাঁদের তৎপরতা দৃশ্যমান করতে শুরু করেছে।
Table of Contents
এবারের নির্বাচনের প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের মনে অভয় দান এবং নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামীকাল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে ‘ভিজিবল পুলিশিং’ বা দৃশ্যমান টহল জোরদার করা হবে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে সংঘাত ও সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ বরাবরের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক থাকবে। পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ টহল দল মাঠে থাকবে, যারা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেবে।
ডিজিটাল যুগে অপতথ্য এবং গুজব নির্বাচনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং পুলিশের বিশেষায়িত উইংগুলো সাইবার স্পেসে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করবে। র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা রোধ করতে র্যাবের সাইবার টিম কাজ করছে। এছাড়াও, নির্বাচনী জনসভাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা:
| ক্যাটাগরি | গৃহীত পদক্ষেপ ও বিশেষ নজরদারি |
| মাঠ পর্যায়ের টহল | পুলিশ ও র্যাবের পেট্রল সংখ্যা বাড়ানো এবং দৃশ্যমান অবস্থান নিশ্চিত করা। |
| প্রযুক্তিগত নজরদারি | জনসভা ও মিছিলে ড্রোন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার। |
| সাইবার মনিটরিং | সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব রোধে বিশেষ সেল। |
| অপরাধী নিয়ন্ত্রণ | দাগি সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী এবং কারাগার থেকে পালানো আসামিদের ওপর নজরদারি। |
| অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার | থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে চিরুনি অভিযান। |
নির্বাচনী পরিবেশ কলুষিত করতে পারে এমন দাগি অপরাধী এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা যাতে নির্বাচন প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম অভিযান চালানো হচ্ছে। সীতাকুণ্ডে সাম্প্রতিক হামলার মতো ঘটনা রুখতে সব বাহিনীকে নিয়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার ও মহানগর পুলিশ কমিশনারদের।
প্রচারণা শুরুর আগের রাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করছে এবং আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে। মাঠ প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ও এলাকাগুলো আগেভাগেই চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর ও সতর্ক অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নির্বাচনী উৎসবকে শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং বাহিনীর কঠোর নজরদারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করবে—এটাই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা।
মন্তব্য