যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা NATS (National Air Traffic Services)-এর কারিগরি ত্রুটির কারণে বুধবার দেশজুড়ে বিমান চলাচলে চরম ব্যাঘাত ঘটে। হঠাৎ এই বিভ্রাটের ফলে ১২০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে, যার মধ্যে লন্ডনের ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিথ্রো, গ্যাটউইক এবং এডিনবরা অন্যতম।
সংবাদ সংস্থা এএফপি লন্ডন থেকে এই খবর জানায়।
কী ঘটেছিল?
যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (NATS)জানায়, কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় লন্ডনের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচল সীমিত করা হয়।
ত্রুটির অবস্থান চিহ্নিত হয় সোয়ানউইক এলাকার কন্ট্রোল সেন্টারে, যা যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।
প্রথম সমস্যা দেখা দেয় স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা), এবং এক ঘণ্টা পর সিস্টেম পুনরায় সচল হয়।
বাতিল ও বিলম্বের চিত্র
বিমান চলাচল বিশ্লেষক সংস্থা Cirium জানায়,
বুধবার সন্ধ্যা ৭:৩০ (স্থানীয় সময়) পর্যন্ত যেসব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে
| ফ্লাইটের ধরন | সংখ্যা |
| ছাড়ার ফ্লাইট | ৬৭টি বাতিল |
| আগত ফ্লাইট | ৫৫টি বাতিল |
এছাড়া বহু ফ্লাইটকে অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়, অনেক ফ্লাইট দেরিতে ছাড়ে, ফলে যাত্রীদের মাঝে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়।
বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষোভ
এ ধরনের বিভ্রাটে বিমানে যাত্রীদের ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, বিশেষত গ্রীষ্মকালীন ছুটির ব্যস্ততম সময়ের মাঝে।
- রায়ানএয়ারের সিওও নীল ম্যাকমাহন বলেন, “২০২৩ সালের আগস্টে ভয়াবহ বিভ্রাটের পরও NATS কোনও শিক্ষা নেয়নি।
এনএটিএস প্রধান মার্টিন রোল্ফের পদত্যাগ করা উচিত।” - ইজিজেটের সিওও ডেভিড মরগান বলেন, “এই সময়টা আমাদের গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা জানতে চাই, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে—সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (NATS) কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
সরকারের অবস্থান
যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন,
“ত্রুটির কারণ এবং স্থায়ী সমাধানের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (NATS)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।”
অতীত বিভ্রাটের স্মৃতি
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৩ সালেও যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (NATS)-এ বড় ধরনের সিস্টেম ব্যর্থতা হয়েছিল, যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভ্রাট হিসেবে চিহ্নিত হয়। তখন হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন।
সংক্ষিপ্ত সময়ের সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্ন
যদিও সমস্যাটি এক ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা হয়েছে, তবে বারবার এই ধরনের কারিগরি বিপর্যয় নিয়ে নিরাপত্তা, পরিকল্পনা ও দক্ষতার প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা ও যাত্রীরা।
একটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণনির্ভর দেশে এরকম ঘটনা বারবার ঘটলে তা বিশ্বব্যাপী আস্থা ও ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
