খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

ঢাকার ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জাহিদ অন্তুকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার নিশ্চিত করেছেন, “মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার এসআই কে এম রাশিদুর রহমান, আদালতে আসামি জাহিদ অন্তুকে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামির আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।”
প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-এ গিটার ক্লাসের সময় ওই ছাত্রী জাহিদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরিচয় থেকে সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তবে পরে সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহিদের বাসায় একটি পণ্যের ফটোশুটের জন্য তিনি ছাত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে ডেকে পাঠান।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্রী গুলশানের জাহিদের বাসায় যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে জাহিদ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং যৌন নিপীড়ন করেন। বাধা দিলে তিনি এলোপাতাড়ি মারধর করেন, যার ফলে ছাত্রীর মুখ, গলা ও মাথায় গুরুতর আঘাত হয়। পরে কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে স্বজনদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আসামি | আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তু |
| অভিযোগ | কলেজছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, মারধর |
| মামলার স্থান | গুলশান থানার আওতাধীন, ঢাকা |
| ঘটনার তারিখ | ২৭ মার্চ ২০২৬ |
| ঘটনার সময় | সন্ধ্যা ৬টা |
| অভিযোগপত্র দাখিল | হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ ও বাসায় হামলা |
| প্রাথমিক চিকিৎসা | কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল |
| আদালতের আদেশ | কারাগারে প্রেরণ, জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | এসআই কে এম রাশিদুর রহমান, গুলশান থানা |
| আইনজীবী | আসামি পক্ষের আবেদনকারী |
এই ঘটনায় ছাত্রীর নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আসামি জাহিদ অন্তুকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। আগামী শুনানিতে বিস্তারিত কার্যক্রমের ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
এছাড়াও, বিষয়টি সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সচেতনতার বার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। যৌন নিপীড়ন এবং শিক্ষার্থী নির্যাতন যে কোনো অবস্থাতেই অপরাধ এবং গ্রহণযোগ্য নয়, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার ব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট হতে হবে।
মন্তব্য