ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এলাকায় রোগীদের হয়রানি, প্রতারণা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে সোমবার (৪ মে) সকালবেলা একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে এনএসআই, পুলিশ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় বিভিন্ন শ্রেণির মোট ৪৫ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে নারী সদস্য, দালালচক্রের সদস্য এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
অভিযান চলাকালে আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার পর প্রিজন ভ্যানে করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় কিছু অসাধু চক্র রোগীদের বিভ্রান্ত করে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের মতো অভিযোগে জড়িত ছিল। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, দালালচক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। রোগীদের নিরাপত্তা ও সেবার স্বার্থে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। তিনি আরও জানান, এবারের অভিযানে এনএসআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং পূর্ববর্তী একাধিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় এটি পরিচালিত হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১৮ থেকে ১৯ জন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি রয়েছেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তাদের হাসপাতাল ভিজিটের নির্দিষ্ট দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার নির্ধারিত থাকলেও অভিযানের সময় দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেকেই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পাঁচজন নারী সদস্যও এ অভিযানে আটক হন। তাদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে চলার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে দালালচক্রের সদস্যসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে আটককৃতদের সংখ্যা ও শ্রেণিবিন্যাস নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| শ্রেণি | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট আটক ব্যক্তি | ৪৫ জন |
| নারী সদস্য | ৫ জন |
| ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি | ১৮–১৯ জন |
| অন্যান্য দালালচক্র সদস্য | বাকি অংশ |
ঢামেক হাসপাতাল এলাকায় রোগীদের হয়রানি রোধে এ ধরনের অভিযান পূর্বেও একাধিকবার পরিচালিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, হাসপাতালের ভেতরে এবং আশপাশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অনিয়ম বন্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
