খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই এপ্রিল ২০২৬, ৪:৫১ পিএম

ইরানের আবাসিক এলাকায় সোমবার রাতভর যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এই হামলা ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয়েছে। ঘটনা কেন্দ্রীয়ভাবে আলবোরজ প্রদেশে ঘটেছে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আলবোরজ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর বলেছেন, এই হামলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও নারী। আহতদের মধ্যে কিছুজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একইসঙ্গে, পশ্চিম ইরানের খোরামাবাদ বিমানবন্দরকেও লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছে।
ইরানী রেড ক্রিসেন্ট হামলাটিকে স্পষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১৭টি বেসামরিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার কোনো বৈধ কারণ নেই। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে প্রতিরক্ষা বিহীন নাগরিকদের ওপর হামলা করা যুদ্ধাপরাধ।”
এই হামলার পেছনের প্রেক্ষাপটেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে “উড়িয়ে দেওয়ার” হুমকি দিয়েছিলেন। তেহরান এই প্রস্তাবকে অন্যায্য হিসেবে প্রত্যাখ্যান করার পরই দুই দেশের যৌথ হামলা শুরু হয়।
| এলাকা | নিহত | আহত | শিশু নিহত | লক্ষ্যবসরিক এলাকা |
|---|---|---|---|---|
| আলবোরজ প্রদেশ | ১৮ | ২৪ | ২ | আবাসিক এলাকা |
| খোরামাবাদ বিমানবন্দর | অজানা | অজানা | অজানা | বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা |
| অন্যান্য প্রদেশ | আনুমানিক ৬ | অজানা | অজানা | মোট ১৭টি বেসামরিক এলাকা |
ইরানী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে রাতের হামলায় দুই ডজনের মতো নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলার ফলে ভীত এবং আতঙ্কের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক চাপের সূচনা করেছে। বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিকদের উপর সংঘটিত হামলাগুলি মানবিক আইন লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
এই মুহূর্তে ইরান পুরোপুরি নিরাপত্তা রক্ষা ও আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা চলছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রোধ করা যায়।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং রেড ক্রিসেন্টের তীব্র নিন্দা, দেশজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
মন্তব্য