ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েল দুটি গোপন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস। রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বেনামী ইরাকি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমি এলাকায় এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৩ মার্চ এক বেদুইন মেষপালক ওই প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি ঘাঁটির অস্তিত্ব শনাক্ত করেন, যা পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার সূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের এক সপ্তাহ আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পৃথক একটি প্রতিবেদনে ইরাকের মরুভূমিতে আরও একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্বের তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলায় সহায়তার উদ্দেশ্যে ইরাকের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ইসরায়েল এই ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে এই তথ্য তুলে ধরা হয়, যদিও তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই প্রথম ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর বিশেষ বাহিনী মোতায়েন ছিল। এটি মূলত একটি লজিস্টিকস বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সেখানে এমন অবকাঠামো রাখা হয়েছিল, যাতে শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডে কোনো ইসরায়েলি পাইলট গুলিবিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হলে তাদের দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরাকি সেনারা যখন ওই ঘাঁটির অবস্থান প্রায় নিশ্চিত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সেখানে হামলার প্রস্তুতির পর্যায়ে পৌঁছে যায় বলে দাবি করা হয়। এই তথ্যও বেনামী সূত্রের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আরেকটি প্রতিবেদনে ৪ মার্চের একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, স্থানীয় এক মেষপালক ওই এলাকায় হেলিকপ্টার চলাচলসহ অস্বাভাবিক সামরিক কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন এবং বিষয়টি ইরাকি বাহিনীকে জানান। এর পরপরই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একজন কর্মকর্তা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, পরবর্তীতে আইডিএফ বিমান হামলা চালিয়ে ইরাকি বাহিনীকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় একজন ইরাকি সেনা নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি বা ইরাকি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পৃথক বিবৃতি প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে এক মার্কিন সূত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাহিনী জড়িত ছিল না। এই অংশটিও একক সূত্রনির্ভর তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দ্বিতীয় ঘাঁটিটি প্রথম ঘাঁটির থেকে ভিন্ন প্রকৃতির এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের আগেই নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর সময় এই ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ২০২৪ সাল থেকেই এই দ্বিতীয় ঘাঁটি নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। তবে এসব তথ্যও বেনামী সূত্র এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি প্রত্যন্ত ও জনবিরল এলাকা। সেখানে সামরিক তৎপরতা ও অস্বাভাবিক চলাচল স্থানীয়দের নজরে আসে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র হিসেবে দ্য জেরুজালেম পোস্ট-এর উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইরাকের ভূখণ্ডে গোপন সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এসব তথ্য একাধিক বেনামী সূত্রের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঘটনাগুলোর স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্পর্কে স্পষ্ট প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
