রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন শান্তি আলোচনা আগামী বুধবার: জেলেনস্কি

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন দফার শান্তি আলোচনা আগামী বুধবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার রাতে তার প্রতিদিনের ভাষণে এই ঘোষণা দেন। এর আগে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা দুটি দফায় হলেও খুব কম অগ্রগতি হয়েছিল।

এএফপি সূত্রে কিয়েভ থেকে জানা গেছে, তুরস্ক সরকারের এক মুখপাত্র জানান, আলোচনা ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হবে। মে ও জুনে পূর্ববর্তী আলোচনাগুলোতে কোনো অগ্রগতি না হওয়ার পর এটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য ৫০ দিন সময় দিয়েছেন এবং না হলে তীব্র নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সর্বশেষ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জেলেনস্কি এই নতুন দফা আলোচনার কথা ঘোষণা করেছেন। রাশিয়ার হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের আশ্রয় নেওয়া একটি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার, জেলেনস্কি তার ভাষণে বলেন, “আজ আমি তুরস্কে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন আলোচনার প্রস্তুতি নিয়ে ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভের সঙ্গে আলোচনা করেছি। রুস্তেম আমাকে জানিয়েছেন যে, বুধবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।”

তিনি বলেন, এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হবে বন্দি বিনিময় এবং রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কে একটি নতুন বৈঠকের প্রস্তুতি।

সপ্তাহান্তে আলোচনার নতুন প্রস্তাব দেওয়ার পর, জেলেনস্কি আরো জানান, মঙ্গলবার আলোচনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

রাশিয়া এখনও নতুন আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুলে আলোচনাগুলি সম্ভবত বন্দি বিনিময় এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে হবে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর, ওয়াশিংটন উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি করার জন্য চাপ বাড়িয়েছিল। ১৬ মে এবং ২ জুন ইস্তাম্বুলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার আলোচকরা বৈঠক করেছিলেন, কিন্তু সে সময় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সে সময়, দুই পক্ষ শুধুমাত্র বন্দি বিনিময় করতে সম্মত হয়েছিল। এরপর রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর তীব্র বিমান হামলা চালাতে থাকে এবং আরও অনেক অঞ্চল দখল করে নেয়।

শান্তি চুক্তির বিষয়ে কিছু আলোচনা হলেও, উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও দূরত্ব রয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনকে চারটি অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে রাশিয়া দখল করা ক্রিমিয়াও রয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে বলেছে।