বাণিজ্য উত্তেজনায় দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি প্রথম প্রান্তিকে সংকুচিত

বাণিজ্য যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ০.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব কোরিয়া এ তথ্য জানায়। খবর এএফপির।

মাসের পর মাস ধরে চলা রাজনৈতিক সংকট এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি খাতের ওপর ২৫ শতাংশ ‘পাল্টা’ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর জেরে সিউল শেয়ারবাজারে ধস নামে এবং দেশটির মুদ্রামান ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের সামরিক শাসনের ঘোষণা এবং পরবর্তী অভিশংসন দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে। এই রাজনৈতিক সংকট অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় দেশের প্রকৃত জিডিপি এ প্রান্তিকে ০.১ শতাংশ কমেছে। অর্থনীতিবিদ হোস্যুং কওন বলেন, “একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে মার্কিন শুল্ক নীতির পরিবর্তন—এই দুই আঘাতে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে পারে।”

এদিকে, দেশটির রপ্তানিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত রপ্তানি ৫ শতাংশ কমেছে। সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, প্রায় ১৪ শতাংশের বেশি।

চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবৃদ্ধি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় আরও কমতে পারে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২.০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.০ শতাংশ করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রামান এবং কঠোর শুল্ক নীতির কারণে প্রবৃদ্ধির গতি আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংক অব কোরিয়ার গভর্নর রি চাং-ইয়ংও বলেছেন, শুল্ক নীতির কঠোরতা প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।