আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইংল্যান্ডের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন প্রধান কোচ থমাস টুখেল। একটি বিশেষ লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে ঘোষিত এই স্কোয়াডে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের নিয়মিত একাধিক তারকা খেলোয়াড় বাদ পড়ায় ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হ্যারি মাগুয়ারের বাদ পড়া ভক্তদের চমকে দিয়েছে। মাগুয়ার নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, শারীরিক অসুস্থতা বা চোট নয়, বরং কৌশলগত কারণে তিনি চূড়ান্ত দলে জায়গা পাননি।
Table of Contents
চমক ও অনুপস্থিতির তালিকা
ঘোষিত স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির ফিল ফোডেন এবং চেলসির তরুণ সেনসেশন কোল পালমারের অনুপস্থিতি। পাশাপাশি ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডও নেই এবারের বিশ্বমঞ্চের পরিকল্পনায়। থমাস টুখেল তাদের পরিবর্তে মর্গান রজার্স ও জুড বেলিংহামের ওপর আস্থা রেখেছেন। তবে চোট সমস্যা থাকলেও জন স্টোন্সকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলত তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, রক্ষণভাগের নেতৃত্বগুণ এবং বড় টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোর দক্ষতার কথা বিবেচনা করেই তাকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে।
আক্রমণভাগে সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে ইভান টনির। প্রায় এক বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর সৌদি প্রো লিগে আল আহলির হয়ে তার সাম্প্রতিক বিধ্বংসী ফর্ম তাকে আবারো জাতীয় দলে ফিরিয়ে এনেছে।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াড (অবস্থান অনুযায়ী)
| অবস্থান | খেলোয়াড়ের নাম ও ক্লাব |
| গোলকিপার | জর্ডান পিকফোর্ড (এভারটন), ডিন হেন্ডারসন (ক্রিস্টাল প্যালেস), জেমস ট্রাফোর্ড (ম্যানচেস্টার সিটি) |
| ডিফেন্ডার | রিস জেমস (চেলসি), টিনো লিভরামেন্টো (নিউক্যাসল), মার্ক গুয়েহি (ম্যানচেস্টার সিটি), এজরি কনসা (অ্যাস্টন ভিলা), জন স্টোন্স (ম্যানচেস্টার সিটি), জ্যারেল কোয়ানসাহ (বায়ার লেভারকুসেন), নিকো ও’রাইলি (ম্যানচেস্টার সিটি), ড্যান বার্ন (নিউক্যাসল), দজেড স্পেন্স (টটেনহ্যাম হটস্পার) |
| মিডফিল্ডার | ডেকলান রাইস (আর্সেনাল), এলিয়ট অ্যান্ডারসন (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ), জর্ডান হেন্ডারসন (ব্রেন্টফোর্ড), মরগান রজার্স (অ্যাস্টন ভিলা), কোবি মাইনো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), এবারিচি এজে (আর্সেনাল) |
| ফরোয়ার্ড | হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ), ইভান টোনি (আল-আহলি), অলি ওয়াটকিন্স (অ্যাস্টন ভিলা), বুকায়ো সাকা (আর্সেনাল), ননি মাদুয়েকে (আর্সেনাল), মার্কাস রাশফোর্ড (বার্সেলোনা), অ্যান্থনি গর্ডন (নিউক্যাসল) |
রণকৌশল ও লিগ বৈচিত্র্য
এবারের স্কোয়াডে প্রিমিয়ার লিগের বাইরের ক্লাবে খেলা খেলোয়াড়দের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অধিনায়ক হ্যারি কেইন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে জার্মানিতে সফল মৌসুম কাটানোর পর দলের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন। অন্যদিকে, মার্কাস রাশফোর্ড বর্তমানে বার্সেলোনার হয়ে খেলছেন এবং জ্যারেল কোয়ানসাহ রয়েছেন বায়ার লেভারকুসেনে। এই আন্তর্জাতিক ক্লাব অভিজ্ঞতার সমন্বয় দলের শক্তি বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিযোগিতার সূচি
ইংল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আগামী ১৮ জুন। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপপর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা ঘানা ও পানামার মোকাবিলা করবে। থমাস টুখেলের অধীনে নতুন রূপের এই ইংল্যান্ড দল কতটুকু সফল হতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
টুখেলের এই সাহসী দল নির্বাচনে তরুণ ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ থাকলেও ফোডেন বা পালমারের মতো ছন্দে থাকা তারকাদের বাদ দেওয়া একটি বড় ঝুঁকি হিসেবেও দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে কোচের দর্শনে শৃঙ্খলা ও সৌদি লিগ বা লা লিগার মতো ভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ১৮ জুনের ম্যাচটিই হবে এই নতুন পরিকল্পনার প্রথম বড় পরীক্ষা।
