প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যে এক অভূতপূর্ব গোলবন্যার ম্যাচে মোট ৯টি গোল দেখা যায়। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৫-৪ ব্যবধানে জিতে নেয় পিএসজি। পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ এবং গোলের ধারাবাহিকতা ফুটবল ইতিহাসে একাধিক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
ম্যাচটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে কারণ ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে এটাই প্রথম ঘটনা যেখানে দুই দলই চার বা তার বেশি গোল করেছে। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে এমন ঘটনা মাত্র একবার ঘটেছিল, ২০০৮-০৯ মৌসুমে চেলসি ও লিভারপুলের ৪-৪ ড্র ম্যাচে।
প্রথমার্ধেই পাঁচটি গোল হয়, যা চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা হিসেবে রেকর্ডে স্থান পেয়েছে। ম্যাচের গতি ও আক্রমণাত্মক খেলা শুরু থেকেই দর্শকদের জন্য অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ইংল্যান্ডের তারকা হ্যারি কেইন এই ম্যাচে টানা ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গোল করার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন, যা কোনো ইংলিশ ফুটবলারের জন্য প্রথমবারের মতো অর্জিত রেকর্ড।
এই ম্যাচটি চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ গোলের নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। পাশাপাশি এটি নকআউট পর্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ হিসেবেও নথিভুক্ত হয়েছে।
এক মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের তিন খেলোয়াড়—হ্যারি কেইন, মাইকেল ওলিসে এবং লুইস দিয়াজ—প্রত্যেকে ন্যূনতম ১০টি করে সরাসরি গোল অবদানের কীর্তি গড়েছেন, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম ঘটনা।
পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ উভয় দলই চলতি মৌসুমে উচ্চ গোলসংখ্যার দিক থেকে বার্সেলোনার দীর্ঘদিনের রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪৫ গোলের রেকর্ড বার্সেলোনার থাকলেও এবার পিএসজি ও বায়ার্ন যথাক্রমে ৪৩ ও ৪২ গোল পর্যন্ত পৌঁছেছে।
পিএসজি এই ম্যাচে লক্ষ্যে নেওয়া পাঁচটি শটের প্রতিটিতেই গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউট পর্বে শতভাগ গোল-দক্ষতার নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডসমূহ
| ক্রম | রেকর্ড | বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | সেমিফাইনালে ৯ গোল | চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে প্রথমবার |
| ২ | প্রথমার্ধে ৫ গোল | সেমিফাইনালে প্রথম ঘটনা |
| ৩ | উভয় দলের ৪+ গোল | ইউরোপীয় সেমিফাইনালে প্রথম |
| ৪ | হ্যারি কেইনের রেকর্ড | টানা ৬ ম্যাচে গোল করা প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় |
| ৫ | বায়ার্নের তিন তারকার ১০+ অবদান | একই মৌসুমে প্রথমবার |
| ৬ | পিএসজির ৫/৫ গোল রেকর্ড | লক্ষ্যে সব শট থেকে গোল, নকআউট রেকর্ড |
| ৭ | নকআউট পর্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল ম্যাচ | মোট ৯ গোল |
| ৮ | এক মৌসুমে দলগত উচ্চ গোল সংখ্যা | পিএসজি ৪৩, বায়ার্ন ৪২ |
এই ম্যাচটি চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে আক্রমণাত্মক ফুটবলের অন্যতম ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে, যেখানে একাধিক ব্যক্তিগত ও দলগত রেকর্ড একই রাতে ভেঙে বা গড়ে উঠেছে।
