খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই মার্চ ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আগের হামলার জবাবে আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনী ইসলামাবাদের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে। আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় পাকিস্তানের ১৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাদ-উল-জুলম’, যা আফগান বাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খবর জানিয়েছে টোলো নিউজ।
Table of Contents
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ এলাকায় পাকিস্তানের প্রধান সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। হামলার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের আগের সামরিক আক্রমণ প্রতিহত করা এবং কাবুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেছেন, “এই অভিযান প্রমাণ করে আফগান বাহিনী কাবুল থেকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান ও স্থলভিত্তিক হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। এটি কৌশলগতভাবে একটি শক্তিশালী বার্তা।”
এই হামলার পর আফগানিস্তান-পাকিস্তান আলোচনার সম্ভাবনা স্থগিত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
কুনারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রধান জিয়াউররহমান স্পিংঘার জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানি বাহিনী ২৭১টির বেশি রকেট ছুড়েছে, যা সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানের নাম | রাদ-উল-জুলম |
| হামলার তারিখ ও সময় | শুক্রবার, বিকেল ৫টা (১৭ মার্চ ২০২৬) |
| লক্ষ্য স্থান | ইসলামাবাদ, ফয়জাবাদ এলাকা |
| নিহত পাকিস্তানি সেনা | ১৪ জন |
| আহত পাকিস্তানি সেনা | ১১ জন |
| পাকিস্তানের হামলার লক্ষ্য | আফগানিস্তানের পাকতিকা ও কুনার প্রদেশ |
| রকেট হামলার সংখ্যা | ২৭১+ (৪৮ ঘণ্টায়) |
| সামরিক বিশ্লেষক মন্তব্য | আফগান বাহিনী কাবুল থেকে পাকিস্তানের স্থাপনা লক্ষ্য করতে সক্ষম |
আফগান বাহিনীর এই প্রতিশোধমূলক হামলা সীমান্তবর্তী উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত আলোচনার পরিস্থিতি স্থগিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, উভয়পক্ষের সামরিক উত্তেজনা সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ এবং আফগান-পাকিস্তান অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধান ও সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দুই দেশের প্রতি আহ্বান জরুরি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা অবলম্বন অপরিহার্য।
মন্তব্য