ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্যের প্রচারণার মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন মো. সারাফাত হোসেন (২৪) এবং মো. শাফায়েত হোসেন শুভ (২১)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক সামিম হোসেন মোট ১০ জন আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বাকি আট আসামির রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিরা হলেন শাহাদাত তৌফিক (২১), মো. ইমাম হোসেন বিজয় (২১), মো. রফিকুল হাসান (২১), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (২১), অমিদ হাসান (২১), মো. আবদুল্লাহ ফাহিম (২১) এবং মো. ইমরান (২৪)।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় মামলা করেন। মামলার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী থানার যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি ফ্ল্যাট থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২৫ এপ্রিল তাঁদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করতেন। এসব ভিডিওতে যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালানো হতো।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চক্রটি অন্তত ২৪টি ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ এবং একাধিক ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এসব ভিডিও প্রচার করত। পরে তারা পণ্যটি নগদ অর্থ পরিশোধের শর্তে (ক্যাশ অন ডেলিভারি) সরবরাহের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত।
নিচে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মামলা দায়েরের তারিখ | ২৩ এপ্রিল |
| আদালতের আদেশের তারিখ | মঙ্গলবার |
| আদালত | অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা |
| রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি | ২ জন |
| মোট গ্রেপ্তার আসামি | ১০ জন |
| রিমান্ড আবেদন | ১০ দিন |
| রিমান্ড মঞ্জুর | ২ জনের ২ দিন |
| তদন্তকারী সংস্থা | পল্টন মডেল থানা ও ডিএমপি |
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
