মমেকে হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু ২৪ ঘণ্টায়

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ২৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষায়িত ওয়ার্ডগুলোতে মোট ৬২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬০৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০৮ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৩৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করা দুই শিশুর মধ্যে একটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকার ৬ মাস বয়সী ছেলে শিশু। তাকে ১৯ মে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২৫ মে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিউমোনিয়া, হার্ট ফেইলিউরসহ হামের উপসর্গ উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য শিশুটি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার দেওথান এলাকার ১০ মাস বয়সী ছেলে। তাকে ২০ মে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২৬ মে ভোরে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিউমোনিয়া, রক্তস্বল্পতা, হার্ট ফেইলিউরসহ হামের উপসর্গ উল্লেখ করা হয়েছে।

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ হাম আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তারা নিউমোনিয়া, তীব্র রক্তস্বল্পতা কিংবা হার্ট ফেইলিউরের মতো মারাত্মক জটিলতা নিয়ে শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে আসছে। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে যাওয়ার আগেই হাসপাতালে আনা জরুরি।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষায়িত ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অক্সিজেন সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসায় জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের প্রতি দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় এবং জটিলতা এড়ানো যায়।