খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৩:৩০ পিএম

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিজ বাড়িতে অসুস্থ মাকে দেখতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য ও ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী সানজিদা আক্তার। নাশকতার একটি মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের কুমেরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সময় নিজ বাড়িতে অবস্থানরত সানজিদা আক্তারকে আটক করা হয়। তিনি উমেদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ইসমাইল কবিরাজের মেয়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে অসুস্থ মাকে দেখতে ঢাকার বাইরে নিজ গ্রামে এসেছিলেন সানজিদা আক্তার। তার অবস্থানের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তাকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আটক করা হয়।
রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সানজিদা আক্তার ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্রপরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, নাশকতার একটি মামলায় সানজিদা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো মামলার তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেখানেই অবস্থান করুন না কেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুসারেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এদিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তিনি মূলত পারিবারিক কারণে অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়িতে এসেছিলেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত সফর বা অবস্থানের বিষয়টি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়; কোনো মামলায় অভিযুক্ত থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
মন্তব্য