খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৫:৬ পিএম

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের রাজধানী দোহায় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিওস’ এই খবরটি প্রকাশ করেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মধ্যকার সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনা ও হামলা বন্ধ করতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানগুলোর সমাপ্তি টানতেও দুই দেশ একমত হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন ইতিবাচক ও নমনীয় সামরিক সিদ্ধান্তের ফলেই মূলত হরমুজ প্রণালির নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে এই কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি হলো।
এক্সিওস তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসন্ন বৈঠকটিকে দুই দেশের মধ্যে আগে থেকে চলতে থাকা পারমাণবিক কর্মসূচির আলোচনার চেয়েও অনেক বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির এই তীব্র সীমান্ত ও নৌপথের বিরোধটি সম্পূর্ণভাবে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক পরমাণু বিষয়ক সমস্ত পূর্বনির্ধারিত আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হওয়ায় এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এখন দুই পক্ষের কাছেই সবচেয়ে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান গভীর উত্তেজনার মূল কারণ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য অতীতে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের (MoU) ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ভিন্ন ভিন্ন বা বিপরীতমুখী ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণেই মূলত এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। জলপথের সীমানা নির্ধারণ এবং কোন দেশ কতটুকু এলাকায় তাদের নৌবাহিনীর টহল সীমাবদ্ধ রাখবে, তা নিয়ে ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এর পাশাপাশি সমুদ্রে যেকোনো ধরনের আকস্মিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত মুখোমুখি সংঘাত এড়ানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মধ্যে একটি সরাসরি হটলাইন বা জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার কথা ছিল। তবে সেই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়াও এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এই হটলাইন চালুর বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য