খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই নভেম্বর ২০২৫, ৮:২৩ পিএম

সব ম্যাচ একই রকম হয় না। কিছু ম্যাচ শুধু জয় বা পরাজয়ের হিসাবেই শেষ হয় না, বরং নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা ঘটায়। এমন ম্যাচের পর বোঝা যায়, দলের ভেতরে কিছু একটা বদলে গেছে। লা লিগার চলতি মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো ছিল ঠিক তেমনই এক মোড় ঘোরানো ম্যাচ। রিয়াল মাদ্রিদ সেই জয়টি উদ্যাপন করেছিল উচ্ছ্বাসের সঙ্গে, যদিও সেটি ছিল না কোনো শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। তবু এমন জয়েও আত্মতুষ্টিতে ভুগেনি দল; বরং তারা আরও লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা পেয়েছে।
এল ক্লাসিকো-এর পর গতকাল রাতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে রিয়াল। সেখানেও জাবি আলোনসোর দল দেখিয়েছে একই তীব্রতা, শৃঙ্খলা আর জয়ের ক্ষুধা। সবদিক বিবেচনায় এটি ছিল সম্ভবত আলোনসোর অধীনে রিয়ালের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স—যেখানে শুধু দারুণ খেলার নিদর্শনই নয়, দলের মানসিকতা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলনও দেখা গেছে।
এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত রিয়াল ১৪ ম্যাচের মধ্যে ১৩টিতে জয় পেয়েছে। লিগে ১১ ম্যাচের ১০টিতে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে তিনের তিনটিতেই জয় এসেছে। এই ধারাবাহিকতায় রিয়াল ইতিমধ্যে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছে—একটি দল হিসেবে যারা কেবল জিততে জানে না, বরং প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের আধিপত্যও প্রমাণ করে।
কৌশলগত দিকের পাশাপাশি দার্শনিক ও মানসিক ক্ষেত্রেও আলোনসো দলে বড় পরিবর্তন এনেছেন। খেলোয়াড়েরা এখন মাঠে আরও আত্মবিশ্বাসী, গতিময় ও মুক্তভাবে খেলছেন। তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়াও আগের চেয়ে আরও পরিণত। ফলে রিয়াল এখন এমন এক দল, যারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার পাশাপাশি নিজেদের পরিকল্পনাও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে।
এই দল অকারণে ছুটে শক্তি নষ্ট করে না, আবার বসে থেকে সুযোগের অপেক্ষাও করে না। তারা জানে, কীভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে আনা যায়। আলোনসো নিজেও বলেছেন, ‘আমরা গতিময় ফুটবল খেলেছি, বল হারালে সঙ্গে সঙ্গে প্রেস করেছি। দলের প্রতি সবার এই ত্যাগ আর ইতিবাচক মানসিকতাই আমাদের আসল শক্তি।’
বর্তমানে আলোনসোর অধীনে রিয়ালের আক্রমণাত্মক ফুটবল এতটাই কার্যকর যে প্রতিপক্ষ দল গড়ে মাত্র ১১.৮টি পাস দিতে পারে, তারপরই তারা বলের দখল হারায়। অর্থাৎ মাদ্রিদের প্রেসিং এখন অত্যন্ত সংগঠিত, আগ্রাসী ও কার্যকর। তারা যখনই বল পুনরুদ্ধার করে, সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে আক্রমণে রূপ দেয়—প্রতিবার বল দখল মানেই এক সম্ভাব্য গোলের সুযোগ।
তবে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত প্রেসিং করে সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের ইতালিয়ান ক্লাব কোমো, যারা গড়ে ৬.৭৬ পাসের মধ্যেই প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেয়। তা সত্ত্বেও একটি জায়গায় রিয়াল সবার ওপরে—এই মৌসুমে প্রতিপক্ষের ফাইনাল থার্ডে সবচেয়ে বেশি ৩৭ বার বল ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।
এই তালিকায় রিয়ালের পর রয়েছে স্ত্রাসবুর্গ (৩৪), ব্রেস্ত (৩৩), ব্রাইটন (৩২) ও বার্সেলোনা (৩১)।
মন্তব্য