খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই মে ২০২৫, ৬:৪৭ পিএম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আবারও নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। সোমবার বুয়েনস আইরেস সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডির উপস্থিতিতে দেশটির সরকার এই ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে, স্বাস্থ্যখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ডব্লিউএইচও ছাড়ার ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, তারও আগে জানুয়ারিতে একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মিলেই সরকার জানায়, ‘ডব্লিউএইচও’র নীতিমালা বৈজ্ঞানিক নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ওপর নির্ভরশীল। তাই এই সংস্থার নির্দেশনা কার্যকর বলে বিবেচিত হতে পারে না।’
Table of Contents
কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও’র ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে আর্জেন্টিনা। সংস্থার কোয়ারেন্টিন নীতিকে তারা ‘গুহাবাসীর মতো’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং এই ব্যবস্থাপনাকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছে।
রবার্ট এফ. কেনেডির সফরে আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মারিও লুগোনেস জানান, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমরা একই আদর্শে বিশ্বাস করি। রবার্ট কেনেডির সঙ্গে যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও আস্থার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেবে।’
গত সপ্তাহে ডব্লিউএইচও’র বার্ষিক সম্মেলনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় রবার্ট কেনেডি অন্যান্য দেশকেও সংস্থাটি ছাড়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ডব্লিউএইচও বর্তমানে চীনের প্রভাব, ওষুধ শিল্প এবং নির্দিষ্ট মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি, বিকল্প আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা গঠনের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার সরকার জানিয়েছে, তারা দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর গঠন ও নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান পুরনো বিধি ও সীমিত নজরদারির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে বলে জানানো হয়। এখন সময় এসেছে এগুলো আধুনিক, স্বচ্ছ এবং কার্যকরভাবে পরিচালনার।
আর্জেন্টিনার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডব্লিউএইচও ত্যাগের ফলে বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এর কী প্রভাব পড়তে পারে — তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
মন্তব্য