গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের নামে অধিক পরিচিত) একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী। তিনি সপ্তম, অষ্টম, নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কাদের লালমনিরহাট-৩ ও রংপুর-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া তিনি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন।
Table of Contents
জিএম কাদের | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রারম্ভিক জীবন
জিএম-কাদের ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মকবুল হোসেন ও মাতার নাম মজিদা খাতুন। শিক্ষাজীবনে কাদের মেকানিক্যালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মেকানিক্যাল প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ টোবাকো কোম্পানি, ইরাকের কৃষি মন্ত্রণালয় ও যমুনা তেল কোম্পানিতে চাকরি করেন। সবশেষ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে পরিকল্পনা ও অপারেশন্স পরিচালক থাকাকালীন চাকরি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
রাজনৈতিক জীবন
রাজনৈতিক জীবনে জিএম কাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন এবং দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হন। পরবর্তীতে লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে জুন ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালে নবম ও ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন। তবে, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে কাদের ৭ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ৭ ডিসেম্বর ২০১১ সালে তাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ১১ জানুয়ারি ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জীবিত থাকাকালীন তিনি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার দরুন ২০১৯ সালের ৫ মে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন
জিএম-কাদেরে স্ত্রী শেরীফা কাদের একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-৪৫ থেকে নিযুক্ত সংসদ সদস্য। তার মেয়ে ইশরাত জাহান কাদেরের স্বামী অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। তার বড় ভাই সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ছিলেন দশম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমানে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান। এরশাদ ও কাদেরের বোন মেরিনা রহমান সাবেক সংসদ সদস্য, মেরিনার ছেলে আহসান আদেলুর রহমান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য। মেরিনার মেয়ে জেবুন্নেসা রহমান জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
সংসদ সদস্য:
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ