জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম

ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রাথমিক বাধা পেরিয়েছে বাংলাদেশের ফর্টিস এফসি। ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মঙ্গলবার প্রিলিমিনারি প্লে-অফে কিরগিজস্তানের লিগ রানার্সআপ মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্ব নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের ক্লাবটি।
ফর্টিসের জন্য ম্যাচটি ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক। বাংলাদেশের সর্বশেষ লিগে তৃতীয় হওয়া করপোরেট ক্লাবটি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে এবারের স্কোয়াডে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে। একাদশে তিনজন স্থানীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে আটজন বিদেশিকে রেখে দল সাজান কোচ মাসুদ কায়সার।
গোলপোস্টে ছিলেন শ্রীলঙ্কার সুজন পেরেইরা। রক্ষণে জাপানের শিহান ও মিমোমুরার সঙ্গে ছিলেন নেপালের আরিক বিস্তা। আক্রমণভাগে গাম্বিয়ার পা ওমর বাবুর পাশাপাশি আবাহনী লিমিটেড থেকে ধারে আসা ইব্রাহিম ও ইনসানকে ব্যবহার করে ফর্টিস। নতুন খেলোয়াড়দের সমন্বয় সত্ত্বেও শুরু থেকেই দলটির মধ্যে পরিকল্পিত ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবলের ছাপ ছিল।
অন্যদিকে, কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডের খেলোয়াড়েরা শারীরিক গড়ন ও শক্তির দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন। তবে ঢাকার দুপুরের তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের শুরু থেকেই সফরকারীদের খেলায় সেই অস্বস্তির ছাপ দেখা যায়। ইউক্রেনের গোলরক্ষক কস্তায়েক এবং দুই ডিফেন্ডার আন্দ্রেই বাতসুলা ও রেকভের সঙ্গে ঘানা ও বেলারুশের খেলোয়াড় নিয়েও শক্তিশালী একাদশ সাজিয়েছিল মুরাস।
প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেললেও ফর্টিস তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণ তৈরি করে। গাম্বিয়ান অধিনায়ক পা ওমর বাবুর একটি শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বারে আঘাত করলে অল্পের জন্য গোল পায়নি স্বাগতিকেরা। ৩৭ মিনিটে মুরাসের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় জাপারভ আমির চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় সফরকারীদের আক্রমণভাগও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
তবে প্রথমার্ধে ফর্টিসকেও স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি মুরাস। কিরগিজ মিডফিল্ডার আতাবায়েভের বিপজ্জনক একটি শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দলকে গোলহজম থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক সুজন পেরেইরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয় ফর্টিস। ৫২ মিনিটে পা ওমর বাবুর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে বল পান ইব্রাহিম। এরপর বক্সের ঠিক ওপর থেকে তাঁর জোরালো নিচু শট মুরাসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ফর্টিস। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক ম্যাচেই ইব্রাহিমের এই গোল শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে জয়সূচক।
গোল খাওয়ার পর মুরাস ইউনাইটেড আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়। শেষ দিকে ফর্টিসের রক্ষণ ও গোলরক্ষক সুজন পেরেইরাকে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে স্বাগতিকেরা। বক্সের মধ্যে আরিক বিস্তার গায়ে বল লাগার ঘটনায় বাহরাইনের রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু ফর্টিসের ভাগ্য সহায় ছিল। মুরাসের মিডফিল্ডার শিমোমুরার নেওয়া পেনাল্টি সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় কিরগিজ দলটির।
শেষ বাঁশি বাজার পর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুরু হয় ফর্টিস সমর্থকদের উদ্যাপন। আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শকসংখ্যা ২ হাজার ১১৩ জন হলেও গ্যালারির উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাক-ঢোলের তালে সমর্থকেরা নাচ-গানে দলের ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন।
ফর্টিসের এই জয় বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর একই সময়ে, ১২ আগস্ট, একই প্রতিযোগিতায় শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা কিরগিজ ক্লাবের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল আবাহনী। এবার সেই কিরগিজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই বাংলাদেশের আরেক ক্লাব দেখাল ভিন্ন ফল।
এই জয়ের ফলে ২০২৬-২৭ মৌসুমের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে খেলবে ফর্টিস এফসি। প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বের আনুষ্ঠানিক ড্র এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হওয়ার কথা। সেখানে ফর্টিসের প্রতিপক্ষ হিসেবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্লাবের নাম উঠতে পারে।
বাংলাদেশের আরেক প্রতিনিধি পুলিশ এফসিও একই প্রতিযোগিতায় মাঠে নামছে। আজ রাতেই জর্ডানের মাটিতে তাদের প্রিলিমিনারি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে ফর্টিসের সাফল্যের পর দেশের ক্লাব ফুটবলের নজর এখন পুলিশ এফসির দিকেও।
মন্তব্য