জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ৪:১৮ পিএম

টাঙ্গাইলের সখিপুর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাগর ইসলাম সিজারকে একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫)। গত সোমবার সন্ধ্যায় নাটোর সদর থানার সামনে থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র রাজনীতিতে একসময়ের প্রভাবশালী এই নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক অভিযোগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকালীন সহিংসতার ঘটনায় জোরালো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মগোপনে থাকা বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতাদের ধরতে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে, যারই অংশ হিসেবে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রাথমিকভাবে একটি নিয়মিত সিআর মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো অপরাধের নথি ও তথ্য নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সখিপুর থানায় দায়েরকৃত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসংক্রান্ত একটি গুরুতর মামলার (মামলা নম্বর: ০৩/০৮/২০২৪) এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উঠে আসে। ওই মামলাটিতে ছাত্র আন্দোলন দমন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং ব্যাপক সহিংসতার নানা ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৎকালীন সময়ে সংঘটিত সহিংস ঘটনার পেছনের কুশীলবদের শনাক্ত করতে এই গ্রেপ্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নাটোর সদর থানা থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইলের সখিপুর থানাকে অবহিত করা হলে সেখানকার পুলিশের একটি বিশেষ দল নাটোর গিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তিনি কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় সখিপুর থানা হেফাজতে আটক রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে। এই গ্রেপ্তারের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বর্তমানে আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই মামলার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য