জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম

বরিশালের গৌরনদীতে এক নারীকে যৌন হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির পর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্বগ্রাম এলাকায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির নাম মো. শাহিন মৃধা। তিনি মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে ভিডিওটি ঠিক কবে, কোথায় এবং কারা ধারণ করেছে—এসব বিষয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে বিল্বগ্রাম এলাকার একটি বসতঘরে এক নারীকে এক ব্যক্তির সঙ্গে আটক করেন শাহিন ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী। এরপর ওই নারীকে হেনস্তা করার পাশাপাশি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, সেখানে ওই নারীকে বিব্রতকর অবস্থায় দেখা যায়। তিনি নিজের ওড়না দিয়ে শরীর ঢাকার চেষ্টা করছিলেন। একই সময়ে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং তাঁর ওড়না সরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন শাহিন মৃধা। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে বিল্বগ্রামে মনির হাওলাদারের বাড়িতে ঘটে। তাঁর ভাষ্য, মনির হাওলাদারের স্ত্রী বিদেশে থাকার সুযোগে ঘটনার রাতে ওই নারীকে বাড়িতে নিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে—এমন খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
শাহিনের দাবি, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে ভিডিওটি তিনি ধারণ করেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একই গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি মিলে ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন এবং তাঁদের মধ্য থেকেই কেউ সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারেন।
শাহিন আরও বলেন, তিনি মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু ভিডিও ধারণ করেননি। ঘটনাটিতে জড়িতদের পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করায় সেদিন রাতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান শাহিন।
তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে ওই ভিডিও ব্যবহার করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্যে যেসব অন্য ব্যক্তির কথা এসেছে, তাঁদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁদের বক্তব্যও জানা যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় তদন্তের কথা জানিয়েছে উপজেলা যুবদল। উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনির হোসেন আকন বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেবেন। ভিডিওটি কোন প্রেক্ষাপটে ধারণ করা হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা কী—এসব যাচাই করে প্রয়োজনীয় দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার সঙ্গে জড়িত এমন কোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া আইনগত ও মানবিক—দুই দিক থেকেই গুরুতর বিষয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
মন্তব্য