খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২১ পিএম

রাজধানীর মহাখালী পাগলার পোল এলাকায় রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ইমরান হোসেন (১৮) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইমরান হোসেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর থানার কামারপুকুর গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেনের ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন। মহাখালীর একটি ওয়ার্কশপে প্রাইভেট কারের মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন ইমরান। পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর মহাখালীর আরজতপাড়া এলাকায় থাকতেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইমরান মহাখালীর পাগলার পোল এলাকার রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন। ওই সময় কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে যান। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরানকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে মহাখালীর আয়েশা হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তার জীবন রক্ষার চেষ্টা করেন। তবে আঘাতের কারণে তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ইমরানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
ইমরানের মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে জীবিকার জন্য রাজধানীতে এসে কর্মজীবনে যুক্ত হওয়া এই তরুণের আকস্মিক মৃত্যু পরিবারটির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। পরিবারের আর্থিক দায়িত্বে তার ভূমিকা কতটা ছিল, সেটিও এখন স্বজনদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটা কিংবা নির্ধারিত স্থান ছাড়া রেলপথ পারাপার বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রেললাইন মানুষের চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে। রেলপথে চলন্ত ট্রেনের গতি ও থামতে প্রয়োজনীয় দীর্ঘ দূরত্বের কারণে শেষ মুহূর্তে পথচারীর পক্ষে নিরাপদে সরে যাওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। ট্রেনের শব্দ শুনেও অনেকে ট্রেনের দূরত্ব বা গতি সঠিকভাবে বুঝতে না পারায় বিপদে পড়েন।
বিশেষ করে রেললাইনের আশপাশে বসতি, দোকানপাট, কর্মস্থল কিংবা নিয়মিত যাতায়াতের পথ থাকলে মানুষ অনানুষ্ঠানিকভাবে রেলপথ ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে অসতর্কতার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বাড়ে। রেলপথ ব্যবহারকারীদের সচেতন করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা জোরদার করা এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইমরান কী কারণে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন এবং ঠিক কীভাবে ট্রেনের ধাক্কায় তিনি আহত হন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে আরও পরিষ্কার হতে পারে। তবে তার অকাল মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, রেললাইন কোনো সাধারণ হাঁটার পথ নয়; অসতর্কতার একটি মুহূর্তই কেড়ে নিতে পারে একটি তরুণ জীবন।
মন্তব্য