জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২ পিএম

বাইকসহ সব ধরনের সাধারণ মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার, বহুসুরের হর্ন কিংবা তীব্র ও বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী অন্য কোনো অননুমোদিত হর্ন বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। এসব নিষিদ্ধ শব্দযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধে মোটরযান মালিক ও চালকদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (৩ আগস্ট) দেওয়া এক বার্তায় বিআরটিএ এ সতর্কতা জারি করে। এতে গত ২১ জুলাই প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির বিষয়বস্তু তুলে ধরে মোটরযান ব্যবহারকারীদের অননুমোদিত ও অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৮১ নম্বর বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে এমন হর্ন বা শব্দযন্ত্র স্থাপন, পুনঃস্থাপন কিংবা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, যা তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক, বিকট বা ভীতিকর শব্দ সৃষ্টি করে। একইভাবে বিভিন্ন সুরে একাধিক ধরনের শব্দ উৎপন্ন করে এমন বহুমুখী হর্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
এই বিধিনিষেধের আওতায় হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার এবং অন্যান্য অননুমোদিত উচ্চ শব্দের হর্নও রয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, পণ্যবাহী যান কিংবা সাধারণ যাত্রীবাহী মোটরযানে এ ধরনের হর্ন ব্যবহার করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মোটরসাইকেলে উচ্চ শব্দের হর্ন সংযোজনের প্রবণতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। রাস্তায় চলাচলের সময় অপ্রয়োজনে এসব হর্ন ব্যবহারে পথচারী ও আশপাশের মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে।
তবে জরুরি সেবায় ব্যবহৃত যানবাহনের জন্য বিধিমালায় নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স, অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নির্দিষ্ট যান প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ শব্দসংকেত ব্যবহার করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং অন্যান্য যানবাহনকে সতর্ক করে নিরাপদভাবে পথ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব সংকেত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাধারণ যানবাহনের জন্য নিষিদ্ধ হর্ন ও জরুরি সেবার অনুমোদিত সতর্কসংকেতকে একইভাবে দেখার সুযোগ নেই।
অননুমোদিত বিকট হর্নের ব্যবহারকে শুধু বিরক্তির বিষয় হিসেবে দেখছে না বিআরটিএ। অতিরিক্ত শব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অস্বস্তি তৈরি করার পাশাপাশি শব্দদূষণ বাড়ায়। ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় ও উচ্চ শব্দের হর্নের প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আকস্মিক বিকট শব্দে পথচারী, যাত্রী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং সড়কের পাশে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বা চমকে ওঠার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সড়ক নিরাপত্তার দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় কিছু চালক সামনে থাকা যানবাহনকে দ্রুত সরে যেতে বাধ্য করতে অতিরিক্ত শব্দের হর্ন ব্যবহার করেন। এতে স্বাভাবিক সড়ক আচরণ ব্যাহত হতে পারে এবং অন্য চালক বা পথচারী হঠাৎ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিশেষ করে যানজটপূর্ণ সড়কে অপ্রয়োজনীয় হর্নের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করে তুলতে পারে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তাই অনুমোদিত মানের হর্ন ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চালকদেরও মনে রাখা প্রয়োজন, হর্ন মূলত সতর্ক করার একটি মাধ্যম; অন্য যানবাহনকে ভয় দেখানো, দ্রুত সরে যেতে চাপ দেওয়া বা যানজটে বিরক্তি প্রকাশের উপায় নয়। প্রয়োজন ছাড়া বারবার হর্ন বাজানোও সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
এ অবস্থায় মোটরযান মালিক ও চালকদের নিজ নিজ যানবাহনে ব্যবহৃত হর্ন পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছে বিআরটিএ। কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেলে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার, বহুসুরের হর্ন কিংবা তীব্র ও বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী অননুমোদিত কোনো শব্দযন্ত্র স্থাপন করা থাকলে তা সরিয়ে ফেলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব হর্ন বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি জনস্বস্তি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোটরযান মালিক ও চালকদের অনুমোদিত হর্ন ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সড়কে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; চালকদের দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। অপ্রয়োজনীয় হর্নের ব্যবহার কমানো, অনুমোদনহীন শব্দযন্ত্র সরিয়ে ফেলা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া উচ্চ শব্দ সৃষ্টি না করার অভ্যাস গড়ে উঠলে নগরজীবনে শব্দদূষণ ও জনভোগান্তি—দুই-ই কমানো সম্ভব হবে।
মন্তব্য