খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও সংগীতের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত বহুল আলোচিত জীবনীচিত্র বা বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে দুর্দান্ত এবং অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক সাফল্য প্রদর্শন করে নতুন এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ছবিটি সংগীতনির্ভর জীবনীচিত্রের (মিউজিক্যাল বায়োপিক) সমগ্র ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার মর্যাদাপূর্ণ তকমাটি নিজের নামে অর্জন করে নিয়েছে।
চলতি বছরের গত ২৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী একযোগে মুক্তির পর থেকেই আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক এবং ইতিবাচক সাড়া পেতে শুরু করে এই চলচ্চিত্রটি। যার ফলে বক্স অফিসের আগের সব রেকর্ড ভেঙে এটি এখন অনন্য উচ্চতায় আরোহণ করছে।
চলচ্চিত্র বাজারের সর্বশেষ বৈশ্বিক বক্স অফিস হিসাব ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘মাইকেল’ সিনেমার সর্বমোট বৈশ্বিক আয়ের পরিমাণ ইতিমধ্যেই ৯১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করে গেছে। আয়ের এই বিশাল অংকের মধ্য দিয়ে ছবিটি এর আগে ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফ্রেডি মার্কারির জীবনভিত্তিক বহুল আলোচিত এবং সমাদৃত চলচ্চিত্র ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছে।
‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ বিশ্বব্যাপী মোট ৯১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে এতদিন পর্যন্ত সংগীতনির্ভর জীবনীচিত্রের তালিকায় শীর্ষ স্থানটি দখল করে রেখেছিল। বর্তমানের এই নতুন হিসাব অনুযায়ী, পূর্বের সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে সংগীতভিত্তিক বায়োপিকের ইতিহাসে এখন আয়ের দিক থেকে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে ‘মাইকেল’।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও বক্স অফিস বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট ধারণা এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির বর্তমান প্রদর্শনী ও আয়ের গতিধারা যেভাবে অব্যাহত রয়েছে, তা বজায় থাকলে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ছবিটি ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলকটি অত্যন্ত সফলভাবে স্পর্শ করতে পারে। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে আয়ের এই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যটি পূরণ হয়, তবে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘মাইকেল’ হবে সর্বপ্রথম সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্র, যা গৌরবময় ও মর্যাদাপূর্ণ ১ বিলিয়ন ডলারের অনন্য বক্স অফিস ক্লাবে নিজের সুনির্দিষ্ট জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।
হলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যান্টোইন ফুকোয়া অত্যন্ত নিখুঁত ও নান্দনিকভাবে এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন। এই বায়োপিকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং বিশেষ দিক হলো—এতে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মূল চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন তাঁরই আপন ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। প্রয়াত কিংবদন্তি এই পপ শিল্পীর জটিল ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে জাফার জ্যাকসনের নিখুঁত রূপদান, শারীরিক অঙ্গভঙ্গি এবং অভিনয় শৈলী বিশ্বজুড়ে সাধারণ দর্শক ও পেশাদার চলচ্চিত্র সমালোচক—উভয় মহলেই ব্যাপক প্রশংসা ও ভূয়সী কুড়িয়েছে।
জাফার জ্যাকসন ছাড়াও এই চলচ্চিত্রে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিয়া লং, জুলিয়ানো ভালদি, কেলিন ডারেল জোনস এবং লরা হ্যারিয়ারসহ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের একাধিক পরিচিত ও দক্ষ অভিনয়শিল্পী। প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এক বিশাল ও বিপুল বাজেটে নির্মিত এই হাই-প্রোফাইল সিনেমাটি এখন সমসাময়িক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম সফল ও আলোচিত প্রজেক্টে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মাইকেল জ্যাকসনের অগণিত ভক্ত-অনুরাগী এবং সাধারণ দর্শকদের বিপুল আগ্রহের কারণেই চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকে বক্স অফিসে এমন ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখতে পারছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষকেরা।
মন্তব্য