জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ২:১৪ পিএম

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারবিরোধী স্লোগান এবং নাশকতামূলক তৎপরতার অভিযোগে দেবীদ্বারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত শনিবার (১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক পৌনে ৮টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার ২ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়নের সিএনবি এলাকার গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী আচমকা সংঘবদ্ধ হন। সেখানে তারা একটি বিতর্কিত শোক র্যালি বের করেন এবং চরম উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল সম্পন্ন করেন।
মিছিলের পরপরই ঘটনাটির ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও চিত্রটি পর্যালোচনা করে এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। এরপর দেবীদ্বার থানা পুলিশের একাধিক চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন সতর্ক স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে উপজেলার পদ্মকোট, লক্ষ্মীপুর ও দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া তিন আওয়ামী লীগ নেতার বিস্তারিত পরিচয়:
মো. আবু তাহের সরকার (৫৮): উপজেলার ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় গ্রামের মৃত হাজী ইদ্রিস মিয়া সরকারের সন্তান। তিনি সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং উক্ত ইউনিয়নের সাবেক নির্বাচিত চেয়ারম্যান।
মো. ফরিদুল ইসলাম (৩৬): ১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামের মৃত শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি উক্ত গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
মো. শাহীন সরকার (৪৫): ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি ফতেহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মহাসড়কে অবৈধ সমাবেশ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অপরাধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলার আলোকে ভিডিও ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি দেবীদ্বার উপজেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও মহাসড়কের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
মন্তব্য